বিশ্বের সবচেয়ে বড় হ্যামার মাওয়ায়

 
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার হ্যামার এখন মাওয়ায়। শুক্রবার এটি পদ্মা সেতু প্রকল্পে এলাকায় পৌঁছায়। এটি এখন ব্যবহার উপযোগী করার প্রস্তুতি চলছে। সাড়ে ৩ হাজার কিলোজুল ক্ষমতার হ্যামারটি জার্মানিতে তৈরি। পদ্মা সেতুর জন্য অর্ডার দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। এরআগে ৩ হাজার কিলোজুল ক্ষমতার আরেকটি হ্যামার আনা হয়েছিল। তবে টেকনিক্যাল কারণে সেটি সচল করা যায়নি। তবে এটি খুব শিগগিরই পাইল ড্রাইভ শুরু করবে বলে দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন। জার্মান থেকে নেদারল্যান্ডস হয়ে সমুদ্র পথে এটি মোংলা এসে পৌঁছে। পরে বিশেষ জাহাজে করে এটি আনা হয় মাওয়ায়। এদিকে ২৪শ’ কিলোজুল এবং ১৯শ’ কিলোজুল ক্ষমতার দু’ হ্যামার এখন যথাক্রমে ২ ও ১৪ নম্বর খুঁটিতে পাইল ড্রাইভ করছে। এখন তুন নামের এই হ্যামার বহরে যোগ দেওয়ায় পাইল স্থাপানের গতি বেড়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
 
পদ্মা সেতুর চারটি খুঁটিতে (পিয়ার) একটি করে পাইল বাড়াতে হতে পারে। তাহলে ছয়টির স্থলে সাতটি করে পাইল স্থাপন করতে হবে। নদীর তলদেশের মাটি নরম থাকার কারণে মাওয়া প্রান্তের ৬, ৭, ৮ ও ১০ নম্বর পিয়ারে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। 
 
নির্ভরযোগ্যসূত্র শুক্রবার এই আভাস দিয়ে বলেছে, ডিসেম্বর মাসে চারটিসহ পদ্মা সেতুর বাকী ১৪টি পিয়ারের ডিজাইন চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। পদ্মা নদীর স্রোত যেমন বৈচিত্রময়, ঠিক নদীর তলদেশেও রয়েছে নানা বৈচিত্রময় মাটির গঠন। তাই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই করেই এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতু নির্মাণযজ্ঞ। 
 
পদ্মা সেতুর প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, যে চারটি পিয়ারের নিচের মাটির নরম নিয়ে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে সেগুলোর গভীরতা ১২৮ মিটারের পরিবর্তে ১৩৫ মিটার করতে গেলে পাইলের টিউব পরিবর্তন করতে হবে। বেশি ক্ষমতাধর হ্যামার প্রয়োজন। 
 
এসব বিবেচনায় গভীরতা বৃদ্ধির বিকল্প হিসেবে প্রতিটি খুঁটিতে ছয়টির পরিবর্তে সাতটি পাইল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তবে ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটিতে তিনটি করে বটম পাইল করে রাখা হয়েছে প্রায় বছর দুই আগে। নতুন ডিজাইনে এই বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এভাবেই বড় একটি চ্যালেঞ্জ সফলতায় রূপ নিচ্ছে। 
 
দ্বিতলবিশিষ্ট পদ্মা সেতু হচ্ছে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য (পানির অংশের) ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ডাঙার অংশ অর্থাৎ সংযোগ সেতু ধরলে সেতুটি প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। খুঁটির ওপর ইস্পাতের যে স্প্যান বসানো হবে, এর ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন। আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়।