জেলার মরিচের খ্যাতি রয়েছে দেশ জুড়ে। উন্নত জাতের মরিচ চাষে বগুড়ার সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলের চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। ভালো ফলন আর ভালো দাম পেয়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দির কৃষকরা হাইব্রিড মরিচ চাষে ঝুঁকে পড়েছে। উত্তরাঞ্চলের মধ্যে বগুড়ার সারিয়াকান্দি মরিচ গুণে এবং মানে ভাল। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির গুড়া মরিচের যোগান দেয় বগুড়ার চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
বগুড়ার মরিচ বলতে যমুনার চরাঞ্চলে উৎপাদিত মরিচকে বুঝায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভাল হয়। বগুড়ার যমুনার চরাঞ্চলে এক সময়ের নিষ্ফলা বালুময় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখন মরিচ, শসা, পটল, বেগুন, ভুট্টা, কলাই ও মিষ্টি কুমড়াসহ নানা প্রকার সবজির চাষ হচ্ছে। এছাড়াও চরাঞ্চলের পলিপড়া জমিতে এসব ফসলের বাম্পার ফলনও হচ্ছে। চরাঞ্চলের জমিতে মরিচ চাষ করে মঙ্গাকবলিত এসব এলাকার অসংখ্য কৃষক পরিবার এরই মধ্যে আর্থিক ভাবে সচ্ছল হয়ে উঠতে শুর করেছে। প্রথমে বালু জমিতে ভুট্টা চাষ করে কৃষকেরা ব্যাপক সাফল্য লাভ করায় ক্রমেই তারা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি মরিচ চাষ শুর করে।
যমুনা নদী বেষ্টিত অর্ধশতাধিক চরসহ উপজেলায় ৫হাজার হেক্টর জমিতে এবার মরিচ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড মরিচ করেছে চাষিরা। মৌসুমের শুরুতে হাইব্রিড কাঁচামরিচ বিক্রি করে তারা প্রচুর লাভবান হয়। হাইব্রিড মরিচ চাষে ফলন ও লাভ বেশি। কারণ মৌসুমের শুরুতে কাঁচা মরিচের দাম ভাল পাওয়া যায়। গত কয়েক বছর থেকে বালু ও পলি পড়া জমিতে মরিচ উৎপাদন করে চরাঞ্চলের মঙ্গাকবলিত মানুষ তাদের সেই দিন পাল্টে ফেলার সুযোগ পেয়েছে।
উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের বেড়াপাঁচবাড়িয়া চরের মরিচ চাষি ইফাজ শেখ জানান, হাইব্রিড মরিচের চারা বগুড়া হতে প্রতিটি ১ টাকা দরে কিনে আনতে হয়। এক বিঘা জমিতে হাইব্রিড মরিচ চাষে খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। মোটামুটি ফলন হলেও মৌসুমের শুরুতে কাঁচা মরিচ বাজারজাত করতে পারলে দাম ভাল পাওয়া যায়। গত বছর প্রতি বিঘায় ৮০ হতে ৯০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি হয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদুজ্জামান বলেন, কৃষক যে ফসলে লাভ বেশি পাবে সে ফসল চাষ করতে আগ্রহী। চরাঞ্চলের মাটি মরিচ চাষের জন্য উপযোগী। এখানে হাইব্রিড মরিচের ফলন বেশি হয়। সেজন্য মরিচ চাষিরা দিনদিন হাইব্রিড মরিচ চাষে ঝুঁকে পড়ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ভাল ভাবে মরিচ চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। মরিচের চাষ করে কৃষক আর্থিক ভাবে সচ্ছল হচ্ছে।
ইত্তেফাক/ এমআর