সন্তানকে নিতে এসে গণধোলাইয়ের শিকার গৃহবধূ

 
বরিশালের গৌরনদীতে দাম্পত্য কলহের জেরে মায়ের কাছ থেকে দুই বছরের মেয়ে শিশুকে ছিনিয়ে এনেছিলো শ্বাশুড়ি সালেহা বেগম (শিশুর দাদী)। অভিযোগ ওঠেছে- শ্বশুর বাড়িতে নিজ গর্ভজাত সেই মেয়েকে আবার নিতে এসে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন মা হাসি বেগম (২০) সহ আরও চারজন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে বরিশালের গৌরনদীর মেদাকুল গ্রামে।
 
মসজিদের মাইকে ছেলে ধরা প্রচার করলে গ্রামবাসীরা এসে হাসি বেগম ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হাসি বেগমের চুল কেটে দেয় বলে অভিযোগ ওঠেছে ওই শাশুড়ির বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে গণধোলাইয়ের শিকার ওই চারজনকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
 
জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত সাদেক মাতব্বরের ছেলে কুয়েত প্রবাসী টিটন মাতব্বরের সাথে তিনবছর আগে পার্শ্ববর্তী কালকিনি উপজেলার চরফতে গ্রামের কুয়েত প্রবাসী চুন্নু বেপারীর মেয়ে হাসি বেগমের সাথে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে তাহিরা নামের দুইবছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
 
শনিবার সকালে গৌরনদী থানায় বসে হাসি বেগম এ প্রতিবেদককে জানান, বিয়ের পর তার স্বামী কুয়েতে যাওয়ার পর তার (স্বামী) পরামর্শেই তিনি শিশু তাহিরাকে নিয়ে তার বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি তাদের পারিবারিক কলহ দেখা দেয়ায় গত পাঁচদিন পূর্বে তার শাশুড়ি সালেহা বেগম কৌশলে শিশু তাহিরাকে নিয়ে পালিয়ে আসে। শুক্রবার সকালে হাসি বেগম তার ফুফাতো ভাই ইসমাইল হোসেনসহ তাদের নিকট আত্মীয় তানভির আহমেদ, সাকিল হোসেন ও সোহেলকে নিয়ে একটি মাহেন্দ্রাযোগে স্বামীর বাড়িতে এসে মেয়ে তাহিরাকে দেখতে চান এবং নিয়ে যেতে চান। এসময় বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বাড়ির পার্শ্ববর্তী মসজিদের মাইকে ছেলে ধরা প্রচার করে গ্রামবাসীকে জড়ো করে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তিনি (হাসি বেগম) সহ তার ফুফাতো ভাই ইসমাইল হোসেন, তানভির আহমেদ, সাকিল হোসেন ও সোহেল গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে তাদের আটক করে গৌরনদী থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
 
হাসি বেগম আরও জানান, এ সুযোগে আমার শাশুড়ি সালেহা বেগম জোরকরে আমার মাথার চুল কেটে দেয়। হামলাকারীরা আমাদের চারজনের সাথে থাকা চারটি দামি মোবাইল ফোন, ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ও নগদ ১৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়েছে। এছাড়াও আমাদের বহনকারী মাহেন্দ্রটি ব্যাপক ভাংচুর করেছে। খবর পেয়ে গৌরনদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটককৃত হাসি বেগমসহ ইসমাইল হোসেন, তানভির আহমেদ, সাকিল হোসেন ও সোহেলকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।
 
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। নিরাপত্তার স্বার্থে মহিলাসহ ৪ জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়ার পর তাদের থানায় আনা হয়েছিল। উভয় পক্ষের মধ্যে শালিস বৈঠক শেষে শিশু তাহিরাকে তার মায়ের কাছে ফেরত দেয়া হয় এবং আটককৃতদের ছেড়ে দেয়া হয়।
 
ইত্তেফাক/জামান