নবম-দশম শ্রেণির পড়াশোনা

বাংলা

মো. মিজানুর রহমান

সহকারী শিক্ষক (বাংলা),

গাইবান্ধা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় গাইবান্ধা।

নমুনা অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর মানেই মূল্যায়নে নম্বর বেশী পাওয়া। নবম-দশম শ্রেণির গদ্য-

                 

                ‘নিমগাছ’

প্রিয় নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজ প্রকাশিত হলো ‘নিমগাছ’ গদ্যের উপর সৃজনশীল প্রশ্নের নমুনা উত্তর। সৃজনশীল প্রশ্নের মাস্টার ট্রেইনার শিক্ষকগণের সুচিন্তিত মতামতের ভিত্তিতে এই নমুনা উত্তর তৈরি করা হয়েছে। আগামীর পরীক্ষায় প্রশ্নোত্তরে এই নমুনা উত্তর অনুসরণ করলে আশাকরি তোমরা সর্বোচ্চ নম্বর পাবে।

উদ্দীপক - মিনু বাবা-মাকে হারিয়ে ফুফুর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। মিন ুকথা বলতে না পারলেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অবিরাম কাজ করে। ফুফার অফিসে যাওয়ার সময় খাবার দেয়া, ফুফাতো ভাই-বোনের স্কুলে যাওয়ার সময় সাহায্য করা, ফুফুকে ঔষধ খাওয়ানোসহ কোনকিছুই তার কাজ থেকে বাদ যায় না। এসব করে নিজেকে ক্লান্ত মনে হয়, এখান থেকে সে বেরিয়ে যেতে চায়। কিন্তু কোথায় যাবে সে ?

ক.  কারা নিমগাছের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ?

খ. নিমগাছটি কেন নতুন লোকটির সাথে যেতে চাইল? বর্ণনা কর।

গ.উদ্দীপকের ফুফুর পরিবারের লোকজন ‘নিমগাছ’ গল্পের কাদের প্রতিনিধি? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.‘উদ্দীপকের মিনুই ‘নিমগাছ’ গল্পের মূল প্রতিপাদ্য’- উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

ক. কবিরাজরা নিমগাছের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

খ. নিমগাছের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে নতুন লোকটি প্রশংসা করেছিল বলে তার সাথে চলে যেতে ইচ্ছে করছিল। নিমগাছের পাতা ছিঁড়ে, ছাল তুলে, ডাল ভেঙ্গে নিয়ে অনেকে তার থেকে উপকার পায়, কিন্তু কখনো যত্ন করে না। নতুন লোকটি নিমগাছের পাতা ও ফুল দেখে মুগ্ধ হয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

গ.উদ্দীপকে মিনুর ফুফুর পরিবারের লোকজন ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছের উপকার ভোগীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ‘নিমগাছ’ গল্পের কবিরাজ তার চিকিত্সার কাজে, সাধারণ মানুষ প্রাত্যহিক প্রয়োজনে নিমগাছকে অনবরত ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু কেউ এই গাছের সামান্য যত্ন করে না, বরং তার চারপাশে শান বাঁধিয়ে আবর্জনার স্তুপ তৈরি করে। মিনুর ফুফুর পরিবারের লোকজন তার কাছ থেকে সব রকমের কাজের সহযোগিতা  পেলেও তার সামান্য যত্নও করে না। এদিক থেকে মিনুর ফুফুর পরিবারের লোকজনকে ‘নিমগাছ’ গল্পের সাধারণ মানুষগুলোর প্রতিনিধি বলা যায়।

ঘ. উদ্দীপকের মিনু ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মী বউটার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা গল্পের মূল প্রতিপাদ্য। গল্পে নিমগাছের অবয়বে লেখক গৃহকর্মা লক্ষ্মী বউ এর বর্ণনা করেছেন অসাধারণভাবে। নিমগাছের পাতা, বাকল, ছায়া ইত্যাদির ব্যহিক উপকারিতা আছে-যেমনি আছে লক্ষ্মী বউ এর সংসারে অবদান। সে সংসার থেকে চলে যেতে চাইলেও কর্তব্যবোধ ও মায়ার বাঁধনে ছেড়ে যেতে পারে না। আবার সংসারের অবদানের জন্য স্বীকৃতিও পায় না।

উদ্দীপকের মিনুও তেমনি নিমগাছ ও লক্ষ্মী বউ-এর মত ফুফুর পরিবারের সকল কাজ-কর্ম করে কিন্তু কোন প্রশংসা পায় না। সংসারে অবদানের জন্য নিমগাছ, লক্ষ্মী বউ যেন একই সূত্রে গাঁথা। নিমগাছ যেমনি পাতা, বাকল, ডাল ইত্যাদির দ্বারা মানুষের উপকার করে লক্ষ্মী বউ যেমন সংসারে অবদান রাখে তেমনি মিনুও ফুফুর পরিবারে অবদান রাখে কিন্তু কোন স্বীকৃতি পায় না। যা ‘নিমগাছ’ গল্পের প্রতিপাদ্য।

তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মিনু ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মী বউটার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা গল্পের মূল প্রতিপাদ্য।