ঝিনাইগাতী উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত রাঙ্গামাটি-খাটুয়াপাড়া রাস্তার বামনতলি বিলে ৪৬ বছরেও নির্মিত হয়নি ব্রিজ। ফলে এ রাস্তায় যাতায়াতকারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে এ বিলেই পাকহানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখযুদ্ধ হয়। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পাকহানাদার বাহিনী ও রাজাকার-আলবদরদের বুলেটের আঘাতে শহীদ হন ১১ নং সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুলসহ আরো অনেকেই। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফকির আব্দুল মান্নান বলেন, কাটাখালী ব্রিজ ভেঙে হানাদার বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করতে এসে এ যুদ্ধ হয়। দেশ স্বাধীনের পর থেকেই এখানে শহীদদের স্মরণে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি ওঠে। এ ব্রিজটি নির্মাণের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বহুবার আবেদন-নিবেদনও করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে আশ্বাসও পাওয়া গেছে। কিন্তু আজো তা বাস্তবায়িত হয়নি।
জানা গেছে, বিএনপি সরকারের আমলে এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয় এলজিইডি। রাঙ্গামাটি খাটুয়াপাড়া, কলসপাড়, গাজীরখামার, কুড়ালিয়াকান্দা ও তাতালপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের হাজার-হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ রাস্তাটি। এখানে একটি ব্রিজের অভাবে এসব এলাকার স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে পথচারীদের নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। কৃষকরা তাদের উত্পাদিত কৃষিপণ্য সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে পারছেন না। গবাদিপশু পারাপারে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের। এখানে ব্রিজ ছাড়াও এ রাস্তাটির বেহাল দশা। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখানে কাঠের সেতু নির্মাণের নামে বিভিন্ন সময় করা হয়েছে লাখ লাখ টাকা লুটপাট। এ অভিযোগ এলাকাবাসীর। গ্রামবাসী জানায়, বর্তমানে নড়বড়ে কাঠের সেতুর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে তাদের। এ সেতুর ওপর দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা। যে কোনো মুহূর্তে সেতুটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসালাম বাদশা বলেন, এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের ব্যাপারে জেলা-উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
শেরপুরের এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের ব্যাপারে উপর মহলকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু