প্রথম পরীক্ষায় টিকে গেছেন রকসি

কোচবিহীন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ৩-০ গোলে হারিয়েছিল মোহামেডানকে। নতুন কোচ মাহবুব হোসেন রকসিকে নিয়োগ দেয়ার পর কাল বিকালে শেখ জামাল ৩-০ গোলে বিজেএমসিকে হারিয়েছে।
 
পার্থক্যটা কি। কোচ ছাড়া যা হয়েছিল কোচ নিয়েও তাই হলো তাহলে তো কোচ ছাড়াই ভালো। প্রেসবক্সের এমন রসাত্মক ফিসাফিসানি মাঠের ডাগ আউটে রকসির কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি। পৌঁছালেই বা কি। রকসি প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় ব্যাপার। কারণ শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব দেশের একমাত্র ফুটবল সংগঠন, যেখানে কোচ সবসময় হট সিটে থাকেন। যে কোনো সময়ে কোচ চাকরি হারাতে পারেন। এমন আশঙ্কা নিয়েই কোচকে কাজ করতে হয়। প্রতি ম্যাচে সর্বক্ষণ জবাবদিহীতার মধ্যে থাকতে হয়। পেশাদারিত্বের কোনো বিকল্প চান না, এই ক্লাবের গভর্নিংবডির চেয়ারম্যান মনজুর কাদের।
 
দলের নাইজেরিয়ান কোচ যোসেফ আফুসি না বলে চলে যাওয়ার কারণে মুহূর্তেই নতুন কোচের খোঁজ পড়ল। মনজুর কাদের রকসির উপর আস্থা রাখলেন। এতে ফুটবল অঙ্গনে কানাকানি হলো। রকসিকে কেন? যার বড় দলকে তালিম দেবার অভিজ্ঞতা নেই। শেখ জামালের মতো বড় দল সেভেন সেভেন সেভেন বোয়িং বিমানের ককপিটে তুলে দেয়া হলো জুনিয়র ফুটবলারদের কোচ রকসির মতো পাইলটকে। প্রথম ম্যাচে আশঙ্কা ছিল শেখ জামালের ললাটে করুণ বাজে কিছু ঘটে না। বিজেইমসির বিপক্ষে প্রথমার্ধটা গোল না হওয়ায় আশঙ্কা আরো জেঁকে বসেছিল। যারা আশঙ্কা করেছিলেন তাদের আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করে দিয়েছেন ইয়াসিন খান, অধিনায়ক দিদারুল হক, খান তাঁরা, ওমর ফারুক বাবু, শ্যামল মিয়া, জাহেদ পারভেজ, নাইজেরিয়ান রাফায়েল, গাম্বিবায়ান সলোমন কিংরা।
 
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। ৩ গোল করে ম্যাচের সহজ জয়টা তুলে নিল। ১৩ খেলায় ৯ জয়ে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেখ জামাল। বিজেএমসি ১৩ খেলায় ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ৭ নম্বরে রয়েছে।
 
প্রিমিয়ার ফুটবলের ফিরতি পর্বে কাল শেখ জামাল নিজেদের দ্বিতীয় খেলায় শুরুটা করেছিল সাদামাটা। কোনো উত্তেজনা নেই। দুই একটা আক্রমণে গেলেও সেটা অফিস দল বিজেএমসিকে কাঁপিয়ে দিতে পারেনি। বিজেএমসির নাইজেরিয়ান কিংসলে হাতের কাছে সুযোগ পেয়েও বলটা শেখ জামালের গোলকিপার মিতুল হাসানের হাতে তুলে দিয়েছেন। আফসোস করেছিলেন বিজেএমসির কোচ জাকারিয়া বাবুও। তার পরও নিজের দল প্রথম ৪৫ মিনিটের খেলায় গোল হজম করেনি বড় দলের কাছে। বাবু হয়তো মনে করেছিলেন দ্বিতীয়ার্ধের খেলাটা সামাল দিতে পারলে বড় দলের কাছে থেকে ১ পয়েন্ট পাওয়াটা যথেষ্ট। কিন্তু সেই আশার গুঁড়েবালি দিয়েছে শেখ জামালের আক্রমণভাগের দুই বিদেশি ফুটবলার।
 
৫২ মিনিটে ডিফেন্ডার খান মো. তাঁরার বল পেয়ে নাইজেরিয়ান রাফায়েল ডান পায়ের আলতো ছোঁয়া বিজেএমসির অধিনায়ক গোলকিপার আরিফুজ্জামান হিমেলকে ফাঁকি দিয়ে জালে ফেলেন ১-০। ১০ মিনিট ব্যবধানে আবারো এই ফুটবলার রাফায়েল গাম্বিয়ান সলোমন কিংয়ের ক্রসের বলটাকে বিজেএমসির জালে ফেলেন ২-০। হ্যাটট্রিকের আশায় থাকলেও এই রাফায়েল হ্যাটট্রিকের খাতায় নামটা লেখাতে পারলেন না। সুযোগটা নিতে পারলেন না। ৮৩ মিনিটে গাম্বিয়ান সলোমন কিং বিজেএমসির শিমুলের ছেলেমানুষি ভুলে বল নিয়ে গোলকিপার হিমেলের মাথার উপর দিয়ে জালে পাঠান ৩-০। হ্যাটট্রিক না পাওয়ায় অসন্তুষ্ট না রাফায়েল। দল জিতেছে তাতেই খুশি।
 
আজকের খেলা
 
আরামবাগ ও সাইফ স্পোর্টিং এবং মুক্তিযোদ্ধা ও রহমতগঞ্জ। (৪টা ৩০ ও ৬টা ৪৫, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম)।
 
ইত্তেফাক/কেআই