গাজীপুরে ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটি মারা গেছে। রবিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শিশুটি পোশাক শ্রমিক রেখা আক্তারের ঘরে মারা যায়।
পোশাক শ্রমিক রেখা আক্তার জানান, রবিবার দুপুরে শিশুটিকে ডাস্টবিনে বাজারের ময়লার ব্যাগের মধ্য থেকে পাওয়ার পর পরই তিনি গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে ঘণ্টাখানেক অক্সিজেন দেন।
তিনি জানান, হাসপাতালের চিকিৎসককে তিনি জানিয়েছেন যে, শিশুটিকে কুড়িয়ে পাওয়া গেছে। তারপরও শিশুটির জন্য হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়নি।
রেখা আক্তার আরো জানান, শিশুটিকে অক্সিজেন দেয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার মতো তার কোনো লোকজন নেই। তিনি সামান্য বেতনে গার্মেন্টে চাকরি করেন জেনেও শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রেখা আক্তারের কাছে কোনো টাকা পয়সা না থাকায় তিনি শিশুটিকে ঢাকায় না নিয়ে শহরের লক্ষীপুরা এলাকায় তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরে রাত দেড়টার দিকে শিশুটি মারা যায়। দুপুরে স্থানীয়দের সহায়তায় নবজাতকটিকে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
রেখা আক্তার জানান, তার একটি ১৭ বছর বয়সের প্রতিবন্ধী ছেলে আছে। ২০০৯ সালে তার স্বামী মারা যান। তার কোনো মেয়ে সন্তান না থাকায় নিজের সন্তান মনে করেই শিশুটিকে লালন পালন করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সে জন্য নবজাতকটির ‘রবেয়া’ নামকরণও করেছিলেন। তিনি ২০০৪ সাল থেকে গাজীপুরে বসবাস করছেন।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, বেওয়ারিশ একটি নবজাতককে উপযুক্ত চিকিৎসা দিলে হয়তো শিশুটি বেঁচে যেত। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় শিশুটিকে বাঁচানো গেল না।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. প্রণয় ভূষন দাস জানান, শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছিল। কিন্তু তাকে ঢাকায় না নিয়ে ওই নারী তার বাড়িতে নিয়ে যান।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. সৈয়দ মো. হাবিবুল্লাহ জানান, এ ঘটনায় কারো কোনো অবহেলা থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/কেকে