পূর্ব শক্রতার জের ধরে গোয়ালন্দে যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহিদকে (৩৫) কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষ। শনিবার সন্ধ্যায় উজানচর ইউনিয়নের জামতলা বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরদিন রবিবার বিকেলে জাহিদের বাবা গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্ত ইউছুফ শেখকে (৩০) সোমবার ভোরে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে।
জাহিদ উজানচর নলিয়াপাড়া গ্রামের নুর মোহাম্মদ প্রামানিকের ছেলে এবং উজানচর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। আটককৃত ইউছুফ শেখ জামতলা বাজার এলাকার ছাহের মণ্ডল পাড়ার বাসিন্দা ও সিঙ্গাপুর প্রবাসী।
স্থানীয় লোকজন জানান, জাহিদের সাথে স্থানীয় ছাহের মণ্ডল পাড়ার আদু শেখের ছেলে সিঙ্গাপুর প্রবাসী শমসের শেখের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধকে কেন্দ্র করে শমসেরের চাচাতো ভাই আরেক সিঙ্গাপুর প্রবাসী ইউছুফ শেখকে একা পেয়ে সম্প্রতি গোয়ালন্দ বাজার থেকে নেতা জাহিদ ও তার লোকজন বেদম মারপিট করে। এতে ইউছুফ গুরুতর আহত হন। প্রতিশোধ নিতে শমসের ও তার লোকজন সুযোগ খুঁজতে থাকে।
শনিবার সন্ধ্যার দিকে জাহিদকে জামতলা বাজার এলাকায় একা পেয়ে মারপিট করে ও পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। স্থানীয় লোকজন জাহিদকে উদ্ধার করে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঘটনার পরদিন যুবলীগ নেতা জাহিদের বাবা স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরু প্রামানিক বাদী হয়ে শমসেরকে প্রধান অভিযুক্ত করে ৮জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এদিকে অভিযুক্ত ইউছুফ শেখের রবিবার দিবাগত রাতে সিঙ্গাপুর যাওয়ার ফ্লাইট ছিল। মামলা দায়েরের পর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ সোমবার ভোরের দিকে ইউছুফ শেখকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে আটক করে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মির্জা আবুল কালাম আজাদ জানান, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইউছুফকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়েছে। পরে সোমবার দুপুরেই রাজবাড়ীর মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি