কটিয়াদীতে ব্রিজ দেবে যাওয়ায় ভোগান্তি চরমে

কটিয়াদীতে খালের উপর নির্মিত ব্রিজ দেবে যাওয়ায় মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পাঁচ বছর আগে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। ব্রিজটির ভূমি জরিপ, পানি প্রবাহ জরিপ ও মাটি পরীক্ষা না করে অপরিকল্পিতভাবে এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ব্রিজটি ধসে পড়ে বলে একজন প্রকৌশলী জানান। ব্রিজের সঙ্গে একটি ঘরও ভেঙে গেছে।

২০১২-১৩ অর্থবছরে উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের মানিকখালী পাছপাড়া খালের উপরে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। কাজটি করেন কিশোরগঞ্জের শিবলু এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি বৃষ্টিতে ৩০ মিটার ব্রিজটি পানির তোড়ে ধসে পড়ে। বর্তমানে দুই গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ব্রিজ ভাঙায় চলাচল করতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রকৌশলী জানান, ত্রাণ অধিদপ্তর প্রতিবছর তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকা ব্রিজ নির্মাণের খাতে খরচ করে। এদের ব্রিজের ডিজাইন ৩০ মিটার। কিন্তু তাদের এক্সপার্ট না থাকায় ভূমি জরিপ, পানি প্রবাহ জরিপ, মাটির পরীক্ষা না করেই কাজ করে। এরফলে ৭০ মিটার খালের মধ্যে মাটি ভরে ৩০ মিটার ব্রিজ নির্মাণ করে। আবার ১০ মিটার খালের উপর ৩০ মিটার ব্রিজ নির্মাণ করে। বিষয়টি অনেকটা তুঘলকি কাণ্ডের মতো।

উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব আইনউদ্দিন বলেন, ব্রিজ ভেঙে পড়ায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। দ্রুত নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করেছি। ঠিকাদার শিবলু মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ব্রিজটি নেত্রকোনার এক ব্যক্তির নামে আমিই করেছি বলে ফোন রেখে দেন। এদিকে পিআইও অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিবলু এন্টারপ্রাইজ কাজটি সম্পন্ন করেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জালাল আহমেদ বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি এ বিষয়ে কিছু জানা নেই। তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বর্তমান অবস্থা অবহিত করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু