এক মাসে ১শ’ কোটি ডলার বাণিজ্য ঘাটতি

রপ্তানি ১২% বেড়েছে Åআমদানি বেড়েছে ৬%

রেজাউল হক কৌশিক

আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি ক্রমেই বাড়ছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাস জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ১০ বিলিয়ন ডলারের উপরে। এ আট মাসে আমদানি বাবদ তিন হাজার ৭৮৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। অন্যদিকে রপ্তানি হয়েছে দুই হাজার ৭১৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ বাড়লেও আমদানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জানুয়ারি মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৯৬৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বেশি।

আমদানি ব্যয় বাড়লে রপ্তানি আয়ও বাড়ে এটাই অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়ম। কারণ বিদেশ থেকে যেসব কাঁচামাল আমদানি করা হয় তার একটি অংশ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে রপ্তানি হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এর ব্যতিক্রমই হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে আমদানির নামে ওভার ইনভয়েসিং এর মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে এমন আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবীদরা। তারা বলছেন, আমদানির নামে যদি অর্থপাচার হয় তাহলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেখা গেছে, রপ্তানি আয়েও কাঙ্খিত গতি আসছেনা। আবার বাণিজ্য ঘাটতির পাশাপাশি প্রবসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সেও কাঙ্খিত গতি আসছে না। ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যের লেনদেন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। আবার আমদানিজনিত চাপে দেশের ভেতরে বেড়েছে ডলারের চাহিদা। ফলে চাহিদার তুলনায় ডলারের যোগান কমে গেছে। এ কারণে ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন ঘটছে। এক বছরের ব্যবধানে প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে প্রায় দেড় টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম আবারও বেড়েছে। প্রতি ডলার এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৪ টাকা ৩৫ পয়সায়। গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দাম ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সা মূল্য বেধে দেয়। কিন্তু এখন তা অনেক বেড়ে গেছে। তবে এক রকম ঘোষণা দিয়ে আরেক দামে ডলার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে বেসরকারী গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ইত্তেফাককে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের রপ্তানি ও আমদানির ধারা দেখলে দেখা যায় এ দুটির মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই সামঞ্জস্য হচ্ছে না। আমদানির ক্ষেত্রে মূলধনী যন্ত্রপাতির বাইরে পেট্রোলিয়াম, খাদ্য পণ্য প্রভৃতি অনেক বেশি আমদানি হচ্ছে। বিনিয়োগেও শ্লথ অবস্থা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, রপ্তানির ক্ষেত্রে যেভাবে মূল্যপতন হচ্ছে আমদানির ক্ষেত্রে সেভাবে হচ্ছে না। এতে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। আমদানি-রপ্তানির নামে অর্থ পাচার হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নও তোলেন। তিনি বলেন, মিথ্য ঘোষণা দিয়ে কেউ পণ্য রপ্তানি ও আমদানি করছে কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।  রপ্তানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় যেটুকু বেশি, তার পার্থক্যই বাণিজ্য ঘাটতি। আর চলতি হিসাবের মাধ্যমে দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝানো হয়। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।