আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে বিচারকদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। কারণ দুর্নীতি বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম শত্রু। সেজন্য দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার বিচারকালে বিচারকদের অত্যন্ত সজাগ এবং এ সংক্রান্ত মামলার প্রতিটি পর্যায়ে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে আইনানুগ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের জুডিসিয়াল কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত ১৩৭ তম রিফ্রেশার কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
বিচারপ্রার্থী জনগণ যাতে স্বল্প খরচে, স্বল্প সময়ে ন্যায়বিচার পান এবং আইনি প্রক্রিয়া বা আইনি ব্যবস্থার জটিলতা কিংবা মামলার অযথা দীর্ঘসূত্রিতার শিকার না হন তা নিশ্চিত করতেও তিনি বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান।
বর্তমানে দেশের আদালতগুলোতে প্রায় ৩০ লাখ মামলা বিচারাধীন আছে একথা উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, এসব মামলার জট কমিয়ে আনা বিচার বিভাগ ও সরকারের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, দেওয়ানী কার্যবিধি এবং অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের মাধ্যমে ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ পদ্ধতির বিধান অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির সহায়ক আইন করা হয়েছে।
এছাড়াও বিচার বিভাগের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন এবং শত বছরের পুরোনো আইন ও বিধিগুলো সংস্কার করে বিচার ব্যবস্থার যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা জট কমিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে বিচারকদেরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বিচারকরা প্রত্যেকেই স্বাধীন একথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আনিসুল হক বলেন, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় একজন বিচারক যদি সৎ, দক্ষ, নিরপেক্ষ ও নির্লোভী হন তাহলে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে তার কোনো ভয় থাকবে না।
তিনি বলেন, বিচারকরা মামলার প্রতিটি পর্যায়ে সততা, দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে এবং বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরো বৃদ্ধি পাবে। বাসস
ইত্তেফাক/কেকে