লিপু হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন

 
ঢাকাস্থ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র তৌহিদুল ইসলাম লিপু হত্যা মামলার রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৯ আসামিকে যাবজ্জীবন ও অপর ৭ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক এবিএম মাহমুদুল হাসান এ রায় প্রদান করেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হচ্ছে- অপহরণ ও হত্যা পরিকল্পনার মূলহোতা বাপ্পী ও সুমন।
 
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট নর্থ সাউথ ভার্সিটির ছাত্র লিপু কুষ্টিয়া শহরের কমলাপুর এলাকার নিজ বাড়িতে ছুটিতে আসার পর একদল দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে লিপুকে পাবনার ঈশ্বরদী এলাকায় বেড়াতে নিয়ে যায় এবং তাকে অপহরণের পর তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবী করা হয়।  ঘটনার পর অপহৃত লিপুর পিতা অগ্রণী ব্যাংকের এজিএম ওয়াহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে লিপুকে উদ্ধারে র‌্যাব-পুলিশের ব্যাপক অভিযান চলাকালে অপহরণকারীরা মুক্তিপণের দাবীকৃত টাকা না পেয়ে লিপুকে বন্দীদশায় হত্যার পর কোমরে ইট বেঁধে লাশ পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়। পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে কয়েকজন আসামি জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ও আদালতে ১৬৪ ধারায় অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দেয়। এছাড়া লিপু অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্যদের নাম প্রকাশ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয় আদালতে।
 
কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ মামলাটির তদন্তশেষে লিপুর বন্ধু ইমন ও শুভসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৮ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। আদালতে যুক্ত-তর্ক উপস্থাপন ও সাক্ষ্য প্রমাণে মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে ওই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হচ্ছে- জুহাইম খন্দকার ওরফে শুভ, হৃদয়, সুমন, আলিফ, সাজেদুল, নয়ন, সজীব, মিনহাজ ও মিলন। এছাড়া আসামি আবু সাঈদের দশ বছর কারাদণ্ড এবং আসামি মাহাবুব আলম, রিপন হোসেন ও সুজন মাহামুদের তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। দোষী প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত চার আসামি আহসান হাবিব, আনোয়ারা বেগম, শাহিনুল ইসলাম ওরফে কল্লোল হোসেন ও আবু তালেবকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিসহ ৯ আসামি উপস্থিত ছিলেন। ফাঁসির অন্য আসামিসহ বাকিরা দীর্ঘদিন পলাতক রয়েছেন।
 
মামলাটি সরকার পক্ষে পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী ও আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাড. গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ ও অ্যাড. লোকমান হোসেন বেগ। উল্লেখ্য, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র নিহত লিপু অগ্রণী ব্যাংক রাজশাহী জোনের ডিজিএম ওয়াহিদুল ইসলাম ও কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষিকা সামসুন্নাহার লিলি দম্পতির একমাত্র ছেলে ছিলেন।
 
ইত্তেফাক/জামান