ভূ-অভ্যন্তরে শিলায় পীড়নের জন্য যে শক্তি জমা হয় সেই শক্তি হঠাত্ করে বেরিয়ে আসার সময় ভূ-পৃষ্ঠ ক্ষণিকের জন্য কেঁপে ওঠে এবং ভূ-ত্বকের কিছু অংশ আন্দোলিত হয়। এই রূপ আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পনকে ভূমিকম্প বলে। ভূগর্ভের কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে ভূমিকম্প উত্পন্ন হয়ে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ভূমিকম্প সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে এক থেকে দুই মিনিট স্থায়ী হয়। শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ঘর-বাড়ি ও ধন-সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভূপৃষ্ঠের প্লেটের স্থানচ্যুতি, আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ, শিলাচ্যুতি কিংবা হিমবাহের মতো কারণে ভূমিকম্প সংগঠিত হয়। তবে প্রাকৃতিক কারণ ছাড়াও মানবসৃষ্ট কারণে বাড়ছে ভূমিকম্পের ঝুঁকি। সমপ্রতি সিসমোলোজিক্যাল রিসার্স লেটারস জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দেড়শ বছরের ইতিহাসে মানবসৃষ্ট নানা কারণে বেড়েছে ভূমিকম্পের ঘটনা।
ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে চীনের প্রলয়ংকারী ভূমিকম্পের মূল কারণ ছিল অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, চীনের সিচুয়ান প্রদেশের জিপিনঙপু পানির আধার থেকে ৩২০ মিলিয়ন টন ওজনের পানি তোলার কারণেই সেখানে ভূগর্ভস্থ প্লেটের ওপর প্রভাব পড়েছিল। মার্কিন জিওলোজিক্যাল সার্ভের তথ্য মতে, ভূ-গর্ভ থেকে একইভাবে অপরিকল্পিতভাবে তেল-গ্যাসের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করার ফলেও বেড়ে যায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি।
ভূ-গর্ভের অভ্যন্তরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সময় অতি ভারি সব যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে অনেক দূর থেকে ভূমিকম্প অনুভূত হতে পারে। ওকলোহোমায় এমনই একটি অতি ভারি হাহড্রোলিক যন্ত্র নিয়ে মাটিতে গর্ত করতে গিয়ে শতাধিক মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর পরেও ঐ জায়গায় নানা সময়ে ভূমিকম্প হয়েছে। অথচ সেখানে ঐ কাজ শুরুর আগে কখনো ভূমিকম্প অনুভূত হয়নি।
এছাড়াও পারমানবিক বিস্ফোরণের ফলেও অনেক জায়গায় ভূমিকম্প অনুভূত হতে পারে। এই ধরনের ২২টি ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে পৃথিবীবাসী। সর্বশেষ উত্তর কোরিয়ায় পারমানবিক পরীক্ষার সময় ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে।-ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
ইত্তেফাক/নূহু