তাসকিনের ফেরার ম্যাচে জিতল রূপগঞ্জ

স্পোর্টস রিপোর্টার

লিগের সমীকরণের দিক থেকে ম্যাচটা অত গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তারপরও খুব সকাল থেকেই মিরপুর স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের নির্বাচক, সাংবাদিকদের সরব উপস্থিতি। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ-উত্তরা স্পোর্টিংয়ের ম্যাচটার দিকে আসলে সবার নজরে ছিল তাসকিন আহমেদের কারণে। বিপিএলের শেষ দিকে গোড়ালিতে পাওয়া ইনজুরি কাটিয়ে প্রায় আড়াই মাস পর ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন ডানহাতি এই পেসার।

তার ফেরার ম্যাচটা হেসেখেলেই জিতেছে রূপগঞ্জ। গতকাল উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবকে ৯ উইকেটে পরাজিত করেছে নাঈম ইসলামের দল। এই জয়ে শীর্ষে থেকেই লিগের প্রথম পর্ব শেষ করল রূপগঞ্জ। ১১ ম্যাচে তাদের জয় ১০টি। সমান ম্যাচে দুটি জয় পাওয়া উত্তরা স্পোর্টিংকে খেলতে হবে রেলিগেশন লিগ।

সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা তাসকিন বোলিং করেছেন পাঁচ ওভার। বল হাতে খুব ভালো কিছু করতে পারেননি এই তরুণ। অনেকদিন পর খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই আহামরি কিছু করে দেখানো যে কোনো পেসারের জন্যই কঠিন। ৩৬ রান দিয়ে উইকেট শূন্য ছিলেন তাসকিন। প্রথম স্পেলে চার ওভার, দ্বিতীয় স্পেলে এক ওভার বোলিং করেছেন।

গতকাল ম্যাচের শুরু থেকেই তাসকিনের বোলিং দেখেছেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। এই তরুণের বোলিং নিয়ে প্রধান নির্বাচকের মূল্যায়ন, ‘রানিংসহ অন্য বিষয়ে সমস্যা নেই। বোলিংয়ে বেশি শর্ট বল করার চেষ্টা করেছে। তবে প্রথম ম্যাচ তো এমন হতেই পারে। ধীরে ধীরে রিদমে আসবে আশা করি। আমার মনে হয় পুরোপুরি ফিটনেস ফিরে পেতে কিছু সময় লাগতে পারে। যেহেতু ওর প্রতিভা নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই। দেখি সামনের সুপার লিগে কেমন করে।’

তাসকিনকে চারটি চার, একটি ছক্কা মেরেছেন উত্তরা স্পোর্টিংয়ের ব্যাটসম্যানরা। একটি ওয়াইড ও দুটি নো বল করেছেন তিনি। দিন শেষে নিজের বোলিং নিয়ে সন্তুষ্ট নন তাসকিনও। প্রথম ম্যাচেই খেলতে নেমে বেশ চাপে ছিলেন। নার্ভাসনেসও কাজ করেছে। গতকাল ম্যাচের পর ২৪ বছর বয়সী এই পেসার বলেছেন, ‘আমার শারীরিক দিক থেকে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে অনেকদিন পর খেলতে নেমেছি বলে কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। অবশ্যই আমি এই পারফরম্যান্সে খুশি নই। আসলে ম্যাচের রিদম আসতে একটু সময় লাগবেই। যেগুলোই আমি ব্যাক অব লেন্থে করতে গেছি, ওইগুলো বাউন্ডারি হয়েছে।’

টসে হেরে আগে ব্যাট করা উত্তরা স্পোর্টিং আট উইকেটে ১৮০ রান তুলেছিল। আনিসুল ইসলাম ৫৫, মিনহাজুল আবেদীন ৩৭, শাকির হোসেন ৩৩, শানাজ আহমেদ ২৭, মিনহাজ খান অপরাজিত ১০ রান করেন। রূপগঞ্জের নাবিল সামাদ তিনটি, রিশি ধাওয়ান দুটি উইকেট পান। জবাবে ৪০.৪ ওভারে এক উইকেটে ১৮১ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় রূপগঞ্জ। মেহেদী মারুফ অপরাজিত ৬২, মুমিনুল অপরাজিত ৪৭, মোহাম্মদ নাঈম ৬৩ রান করেন। রূপগঞ্জের বাঁহাতি স্পিনার নাবিল সামাদ ম্যাচ সেরা হন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব: ৫০ ওভারে ১৮০/৮ (আনিসুল ইসলাম ৫৫, মিনহাজুল আবেদীন ৩৭, শাকির হোসেন ৩৩, শানাজ আহমেদ ২৭, মিনহাজ ১০*; নাবিল সামাদ ৩/২৯, রিশি ধাওয়ান ২/৪৫, শহীদ ১/৩১)

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ: ৪০.৪ ওভারে ১৮১/১ (মেহেদী মারুফ ৬২*, মুমিনুল ৪৭*, মোহাম্মদ নাঈম ৬৩; মোহিমিনুল খান ১/৩৪)

ফলাফল: রূপগঞ্জ নয় উইকেটে জয়ী