সিটিকে চমকে দিল টটেনহ্যাম

প্রত্যাশিত জয়ে উল্লসিত লিভারপুল

 স্পোর্টস ডেস্ক

কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে পর্তুগিজ চ্যাম্পিয়ন পোর্তোকে সহজেই হারিয়ে দিলে লিভারপুল। মঙ্গলবার রাতে প্রথম লেগে ২-০ গোলের এই জয়ে সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রাখলো ইউর্গেন ক্লপের দল। নিজেদের মাঠ অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের হয়ে গোল করেন নাবি কেইতা ও রবার্তো ফিরমিনো।

তবে, লিভারপুলের এই জয় ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনার ঝড় তুলেছে সিটির পরাজয়। নিজেদের মাঠে সন হিউং মিনের একমাত্র গোলে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপাপ্রত্যাশী দলটাকে হারিয়ে দেয় স্পার্সরা। দলের প্রাণভোমরা হ্যারি কেইনের ইনজুরির খবরেও ম্লান হচ্ছে না টটেনহ্যামের এই জয়ের উচ্ছ্বাস। যদিও, গোলদাতা সনকে ছাপিয়ে টটেনহ্যামের জয়ের নায়ক এই রাতে ছিলেন গোলরক্ষক হুলো লোরিস। কারন এর আগে প্রথমার্ধে সিটির আর্জেন্টাইন তারকা সার্জিও অ্যাগুয়েরোর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্বকাপজয়ী এই ফরাসি গোলরক্ষক।

এর আগেই লিগ কাপের শিরোপা জয় করা পেপ গার্দিওলার দল ম্যানচেস্টার সিটি এফএ কাপের ফাইনালেও। প্রিমিয়ার লিগ জয়ের লড়াইয়েও তারা শক্ত অবস্থানে আছে। কিন্তু, মঙ্গলবার রাতে টটেনহ্যামের বিপক্ষে এই পরাজয় তাদের মনোবল অনেকটাই ভেঙে দিয়েছে। চারটি শিরোপা জয়ের রাস্তাটা এখন অনেক বাঁধায় পরিপূর্ণ। সিটিকে এখন তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে দ্বিতীয় লেগের দিকে। নিজেদের মাঠ ইতিহাদে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৭ এপ্রিল।

কোচ গার্দিওলা অবশ্য দ্বিতীয় লেগের চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছেন। তিনি বলেন, ‘এটা বিশাল একটা আসর। এমন আসরে এসব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবেই। এমন না যে এই ম্যাচে আমরা খারাপ খেলেছি। বরং, ওরা (টটেনহ্যাম) খুব কম সুযোগ সৃষ্টি করেও জিতেছে। আমি দ্বিতীয় লেগের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। আমরা টুর্নামেন্টের এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গেছি যেখানে এমনটা হতেই পারে।’

দ্বিতীয় লেগে কি করতে হবে, সেটা ভালোভাবেই জানা আছে গার্দিওলার। আত্মবিশ্বাসী এই কোচ বলেন, ‘দল যখন ভালো খেলে না, তখন সেটা বলতে আমি দ্বিধা করি না। তবে, এবার আমার তেমন কোনো অনুভূতি হচ্ছে না। আমি জানি দ্বিতীয় লেগে আমাদের কি করতে হবে। স্রেফ গোল করতে হবে, নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে। আমরা সেটার চেষ্টাই করবো এখন। আশা করি, নিজেদের মাঠে প্রতিটা মুহূর্তে আমাদের জন্য চিত্কার করবেন দর্শকরা। আশা করি, কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে ইতিহাদ।’

এদিকে পোর্তোর বিপক্ষে এই জয় নিয়ে নিজেদের মাঠে ইউরোপিয়ান সব ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা ২১টি ম্যাচ অপরাজিত রইলো লিভারপুল। এর মধ্যে ১৫টি জয় ছাড়াও আছে ছয়টি ড্র। অল রেডরা এর মধ্যে ১২টি ম্যাচে কোনো গোলই হজম করেনি। এর বাদে বাকি নয়টা ম্যাচে হজম করেছে ১৫ টি গোল।

পোর্তোও ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে নিজেদের ব্যর্থতা অব্যহত রইলো। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় টানা ২০টি ম্যাচে ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে জয়শূন্য রইলো পর্তুগিজ দলটি। দারুণ জয়ে উচ্ছ্বসিত কোচ ইউর্গেন ক্লপ। তিনি বলেন, ‘জয়টা আমাদের প্রাপ্যই ছিল। এই কথাটা শতভাগ সত্য। আমরা অসাধারণ দু’টি গোল করেছি। আর প্রতিটি গোলেই আমরা বিপজ্জনক অবস্থানে ছিলেন। তবে, সেই অবস্থা কাটিয়ে লক্ষ্যভেদ করাটা দারুণ ব্যাপার।’

এই ম্যাচটা দিয়ে ক্লপও দারুণ একটা অর্জনের মুখ দেখেছেন। কোচ হিসেবে এটাই তার ৪০০ তম জয়। এর মধ্যে ১১১টি তিনি পেয়েছেন লিভারপুলের হয়ে। ক্লপ তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ সংখ্যক ম্যাচ জিতেছেন জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে। ডাগআউটে থেকে তিনি ক্লাবটির ১৮০টি জয় দেখেছেন। আর পাঁচটি ম্যাচ জিতেছেন এফএসভি মেইনজের হয়ে।