শাহদাব আকবর
মাত্র কিছুদিন পূর্বে উপজেলা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপ শেষ হলো। এই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা বাদে প্রায় ৪০ শতাংশ বিদ্রোহী প্রার্থীর জয় হয়েছে। এই জয়ের মাধ্যমে একটা চিত্র পরিষ্কারভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে তা হলো দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে যারা পরাজিত এবং কোথাও কোথাও শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূলে তাদের অবস্থান কি পর্যায়ে। প্রমাণ হয়েছে প্রতীক ছাড়া নির্বাচন করলে তাদের কি বেহাল অবস্থা হতো। তাই দলীয় হাইকমান্ডকে এই বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি। এই নির্বাচনের আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও প্রতীক দেওয়া হয়েছিল এবং সেই নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত সৈনিক অনেকে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়েছেন এবং বরাবরের মতো গত সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে জীবন বাজি রেখে নির্বাচনী যুদ্ধে সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে থেকে প্রমাণ করেছেন তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক।
আরেকটু গভীরে যাওয়া প্রয়োজন। প্রতিটা এলাকায় একাধিক তৃণমূল নেতা আছেন যারা দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং রাজনীতির দুঃসময়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এই সৈনিকেরা রাজনীতির মাঠে সর্বাগ্রে থেকে আওয়ামী লীগকে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য লড়াই করেছেন জেল, জুলুম, অত্যাচার সবকিছু উপেক্ষা করে। এরাই আওয়ামী লীগের প্রাণ, এরাই দলের মেরুদণ্ড। কিন্তু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন দেওয়ার কারণে এবং এইসব নেতার মধ্যে তীব্র অনৈক্যের কারণে উপজেলা ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যন্ত দল উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে নেতাকর্মীরা। এর কারণেই নিজেদের দলের অনুসারীদের মধ্যে গ্রাম্য ভাষায় কাইজ্জা, দাঙ্গা, হাঙ্গামা লেগেই থাকে।
আরো লক্ষণীয় বিষয় এবং দলের জন্য শঙ্কাজনক হচ্ছে স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুধু নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য প্রায় সব প্রার্থী বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দলে ভিড়িয়ে নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করে। যার পরিণাম ভয়াবহ। সকল আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে শুধু দল ভারী করার কারণে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রায় সকল নির্বাচিত/অনির্বাচিত প্রার্থী ব্যক্তি দলে যোগদানকারী বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সকল সহযোগিতা দিয়ে আগলে রাখেন। ফলে ক্ষমতায় থাকাকালীন বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার কোনো সুযোগ থাকে না। কারণ সবাই তখন আওয়ামী লীগ। শুধু সংসদ নির্বাচনে দলে ঘাপটি মেরে থাকা এসব বিরোধী শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। জাতীয় রাজনীতির হাওয়া বুঝে এরা রঙ পাল্টায়।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিটা ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ আজ অনুধাবন করতে পেরেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পর কিংবদন্তি আরেকটি নাম—দেশরত্ন শেখ হাসিনা।
তাঁর হাতকে আরো শক্তিশালী করতে এবার তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোকে শুধু আদর্শের ভিত্তিতে শক্তিশালী অবস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে স্থানীয় নির্বাচনে প্রতীক না দেওয়া এবং তৃণমূলের নেতাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটি নির্বাচিত করলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প থাকবে না। সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই আগামীতে দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যত্ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
n লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক