কুমিল্লার মুরানগর উপজেলা সদরে অবস্থিত প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় তিন হাজার বর্গফুট আয়তনের তিন তলা বিশিষ্ট শহীদ স্মৃতি শিশু একাডেমিটি এখন প্রায় গণশৌচাগারে পরিণত হয়েছে। ব্যয়বহুল এ অডিটরিয়ামটি উদ্বোধনের পর থেকে অভিবাবকহীন হয়ে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে।
সরেজমিনে জানা যায়, মুরাদনগর ডিআর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস, আর্দশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মুরাদনগরের একমাত্র খেলার মাঠ, নূরনন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সাব-রেজিস্ট্রি আফিস, মুরাদনগর থানা এবং সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় এতগুলো প্রতিষ্ঠানের মাঝে ১৯৮৯ সালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে মুরাদনগর শহীদ স্মৃতি শিশু একাডেমি। নির্মাণ শেষে ৫/৬ বছর সেটির অবস্থা ভাল থাকলেও এর পর থেকে এটি খারাপ ছেলেদের আড্ডার ও নেশাগখোরদের একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার হতো।
বর্তমানে এই ভবনটির নেই কোনো দরজা জানালা এবং হল রোমের নেই কোনো চাল। বাহির থেকে দেখতে মনে হবে কোনো পরিত্যক্ত গুদাম ঘর। আর কাছে গেলে মনে হবে যেন পাবলিক টয়লেট। এটি হল মুরাদনগর উপজেলার শহীদ স্মৃতি শিশু একাডেমি অবস্থা। প্রশসানের অবহেলায় অব্যস্থাপনায় এটি এখন ঘন টয়লেট হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। এতগুলো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এবং প্রশাসনের সামনে শিশুদের মেধাবিকাশের এই প্রতিষ্ঠানটি অবহেলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বললে ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া বলেন, আমাকে কিছু বলবেন না এটা আমাদের লজ্জার কথা, এই কথা বলে আমাদের অপমান করবেন না বলে আর কিছু বলতে চাননি।
শহিদুল্লা স্যার বলেন, এটা আমাদের লর্জ্জার কথা, এটি তৈরী করা হয় ১৯৮৯ সালে। এরপর ৫/৬ বছর তা ঠিক ছিল এর পর থেকে এটি খারাপ ছেলেদের আড্ডার ও নেশার স্থান হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এবং দরজা জানালা টিন খুলে নিয়ে গেছে। এটি এখন পরিত্যক্ত টয়লেট হিসেবে আছে। এভাবে স্থানীয় আরো অনেকের সাথে কথা হয় তারা দুঃখ ও খুব প্রকাশ করেন। এলাকাবাসীর আশা প্রশাসনের কাছে তাদের চাওয়া প্রতিষ্ঠানটি যেন ধ্বংস না করে এ উপজেলার সভা, সেমিনার, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি করার জন্য সংস্করের মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম খসরু জানান, এ ভবনটিকে পরিত্যক্ত হিসেবে ঘোষণার জন্য আমরা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এবং এ ভবনটির স্থলে নতুনভাবে আরো একটি অডিটরিয়াম নির্মানের পরিকল্পনা আছে।
ইত্তেফাক/এএম।