শ্রান্তিবিনোদন ভাতা চাই প্রতি বছর

আর্থিক সংস্থান থাকলে কাছে কিংবা দূরে কোথাও একা বা সপরিবারে অবসরমতো বেরিয়ে পড়া; একটুখানি বেড়ানো, ঘোরাফেরার মাধ্যমে একঘেয়েমি থেকে মুক্ত হওয়া, মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়।

চলতি রেওয়াজে অতীতের ১৫ দিনের একটি ছুটিকে সমন্বয় করে প্রদর্শন করতে হয় শ্রান্তিবিনোদন ছুটি হিসেবে। অর্থাত্ শ্রান্তিবিনোদনের ভাতা উত্তোলনের ছুটি হিসেবে যে ছুটিটি প্রদর্শিত হয়, তা সবসময়ই বিগত হয়ে যাওয়া কোনো না কোনো ছুটি। ছুটি সমন্বয়ের এই অব্যবস্থাটির অবসান কাম্য। নিয়ম করা ভালো, ভাতা ননভ্যাকেশন বিভাগের কর্মচারীদের অনুরূপ ভ্যাকেশন বিভাগের কর্মচারীগণও প্রত্যেকে ১৫ দিনের ছুটি প্রাপ্য হবেন। বছরের যে কোনো সময় ইচ্ছামতো নিতে পারবেন। আর সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয় প্রতি বছর শ্রান্তিবিনোদনভাতা প্রদানের, তবে ছুটিটি ১০ দিনে নামিয়ে আনা যেতে পারে। এছাড়া এখন যেমন প্রতি বছরের পহেলা জুলাইয়ে প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীর বেতন প্রবৃদ্ধির তারিখ ঠিক করা আছে, তেমনি প্রতি বছরের অক্টোবর বা নভেম্বর অথবা যে কোনো মাসকে শ্রান্তিবিনোদনভাতা প্রদান ও গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া যেতে পারে। এতে সরকারের হিসেব রাখা এবং কর্মচারীদের নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্তিযোগ নিশ্চিত হবে। যেখানে বাংলাদেশে বিদ্যমান ব্যাংকগুলো এবং কর্পোরেট শিল্পবাণিজ্য সংস্থার কর্মচারীরা মূল বেতনের সমপরিমাণ একাধিক ক্ষেত্রবিশেষে ৩ থেকে ৪টি মূল বেতনের সমপরিমাণ প্রণোদনা আনুতোষিক ভাতা পেয়ে আসছেন, সে তুলনায় সরকারি কর্মচারীদের এই দাবি খুব বেশি কিছু নয় বলে মনে করি। আশা করি, সরকার প্রতি বছরই শ্রান্তিবিনোদনভাতা দেবে। আর একান্তই যদি তা দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে বর্তমানের ৩ বছর পরপর দেওয়ার পরিবর্তে প্রতি ২ বছর পরপর শ্রান্তিবিনোদনভাতা প্রদান করা হোক। কর্মচারীদের আরো কর্মোদ্যোগী ও প্রণোদিত করে তুলবে এই শ্রান্তিবিনোদনভাতা।

তোফায়েল হোসেন খান

সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ,

সরকারি আনন্দমোহন কলেজ,

ময়মনসিংহ