বদলগাছীতে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ইউএনও অফিসে ভাংচুর এবং মারামারির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা সদরের লাবন্যপ্রভা কমিউনিটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সোমবার পরীক্ষার দিন ধার্য্য ছিল। এতে ১১জন আবেদন করেন।
ডিজির প্রতিনিধি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান নিলে ৬জন আবেদনকারীকে বিরাট অংকের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ প্রদান করা হচ্ছে এবং বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষে আগামী বুধবার (২৯ নভেম্বর) ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মর্মে অভিযোগ সম্বলিত একটি আবেদন দিতে গেলে জেলা যুব মহিলালীগের সম্পাদক ফেন্সী বেগম কয়েকজনকে নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে আবেদনকারীদের সাথে বাক বিতণ্ডায় লিপ্ত হন।
এসময় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীও সেখানে গিয়ে শিক্ষক নাজমুল হক, আবু হুড়াইরা বাদশাসহ অন্যদের বেধড়ক মারপিট করেন এবং ইউএনও অফিসের চেয়ার তছনছ এবং জানালা ও দরজার পর্দা ছিঁড়ে ফেলেন। এসময় অফিসের লোকজন দৌঁড়ে এসে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও থামাতে ব্যর্থ হন।
এসময় মারামারির খবর জানতে পেরে পুলিশ, বিএমডিএর চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন চৌধুরী এবং প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন উক্ত স্থানে পৌঁছে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা চলছে, নিয়োগ হবে।
অভিযোগকারীরা বলেন, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েই দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাটি আইওয়াশ মাত্র। এরজন্য আমরা আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
উল্লেখ, বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং নির্বাচন চলাকালীন অবস্থায় শিক্ষক নিয়োগের এই ঘটনায় এলাকার সুধীজনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির আশংকাও অনেকে মনে করছেন। কেননা ইতিপূর্বেও এই একই পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের মধ্যে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছিল। যার ফলে নিয়োগ পরীক্ষার পরেও নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় নাই।
ইত্তেফাক/আরকেজি