বিভিন্ন স্থানে ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজন করা হচ্ছে : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। দেশের বনায়নের আওতা বাড়াতে ও সবুজ বেষ্টনীকে দীর্ঘমেয়াদী করতে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি।

গতকাল সোমবার রাজধানীর বন ভবনে সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ঢাকা বন বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ও সচিব ইসতিয়াক আহমদ। সভাপতিত্ব করেন প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী।

সুন্দরবন রক্ষায় গুরুত্বারোপ করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সুন্দরবন রক্ষা করতে না পারলে শুধু খুলনা, বাগেরহাট বা পিরোজপুর নয়, ঢাকা পর্যন্ত অসুবিধায় পড়বে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয় তা থেকে রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করে সুন্দরবন। যারা ‘সুন্দরবন নেই’ বলে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালান বা যাদের চিন্তাভাবনায় ‘সুন্দরবন নেই’ তাদের এই বন ভ্রমণের পরামর্শ দেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, লবনাক্ততা বৃদ্ধিসহ নানা কারণে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হবার কথা। অথচ আরো সমৃদ্ধ হচ্ছে ১০ কিলোমিটার বিস্তৃত এই বন। গাছপালা আগের চেয়ে বেড়েছে। আমাদের টার্গেট ছিল ১৭ শতাংশ, যা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা নাসা এটা স্বীকার করেছে। শুধু বাংলাদেশের গণমাধ্যমে নয়, বিদেশের গণমাধ্যমেও এ বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, গাজীপুরে বন আছে সেটা সামাজিক হোক বা সংরক্ষিত হোক; না গেলে বিশ্বাস করা যাবে না। গাছ লাগানোর নানা ইতিবাচক দিক তুলে ধরে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সাধারণ মানুষও এখন গাছ লাগাচ্ছে। এতে শুধু তারা উপকৃত হয় না, সরকারও উপকৃত হয়। যেখানে গ্যাস নেই, বিদ্যুত্ নেই তাদের জ্বালানির জন্য গাছ দরকার। গাছপালা বাতাসের ক্ষতিকর কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। সামাজিক বনায়নের জন্য এখন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সাফল্য বেশি মন্তব্য করে বলেন, আগে বন দখল হতো। বর্তমান সরকার এসে দখল থেকে বন পুনরুদ্ধার করেছে। বিএনপি সরকারের সময় বনাঞ্চলের পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এখন তা হয়েছে ১৭ শতাংশের বেশি। বনায়নের মাধ্যমে নগদ অর্থ পেয়ে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে।

সচিব ইসতিয়াক আহমদ বলেন, দেশের আবহাওয়া প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। অসময়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। হাওরের ঢল নেমে আসছে। তাপমাত্রা বাড়ছে। এসব থেকে রক্ষা পেতে হলে গাছপালার সংখ্যা বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশের ২ কোটি টাকার চেক ১৫১ উপকারভোগীর মাঝে বিতরণ করেন।  অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের আওতায় গাজীপুরের সৃজিত বন থেকে মেয়াদ শেষে কর্তনের পর বিক্রয়লব্ধ অর্থের ৪৫ শতাংশ টাকা চেকের মাধ্যমে উপকারভোগীদের প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বখতিয়ার নূর সিদ্দিকী স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

ইত্তেফাক/নূহু