নিকলীর রোদারপুড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা সংকট

শ্রেণিকক্ষ, পর্যাপ্ত বেঞ্চ এবং শিক্ষকের অভাবে পাঠদানে ব্যাহত হচ্ছে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারুইতলা ইউনিয়নের রোদারপুড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের বারান্দায় চলে পাঠদান।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে ৫২ শতাংশ জমির ওপর চারটি শ্রেণিকক্ষ নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়। নতুন শিক্ষানীতি অনুসারে নিকলী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৪ সালে অষ্টম শ্রেণি খোলার লক্ষ্যে আপগ্রেড করে ষষ্ঠ শ্রেণি খোলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় এ বছর সপ্তম শ্রেণির পাঠদান শুরু হয়। কিন্তু বাড়েনি স্কুলটির শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ এবং অন্যান্য উপকরণ। এ বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ২৬৯ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। সে অনুপাতে শিক্ষক দরকার নয়জন, কর্মরত রয়েছেন সাতজন। শ্রেণিকক্ষের দরকার আটটি, রয়েছে চারটি। ফলে বাধ্য হয়ে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্কুলের বারান্দায় চট বিছিয়ে ও একরুমে একই সময় ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। শ্রেণিকক্ষ সংকট ও প্রয়োজনের তুলনায় বেঞ্চের অভাবে শিক্ষার্থীরা দিন দিন বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ছাড়াও উপবৃত্তি না থাকায় আরেকটি সমস্যা। মাধ্যমিক পর্যায়ে উপবৃত্তি চালু থাকলেও আপগ্রেড করা প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে এখনও উপবৃত্তি চালু হয়নি। বিদ্যালটিতে দুই শিফটে ক্লাস নেয়। সকাল সাড়ে নয়টায় ১২টা পর্যন্ত প্রথম শিফটে শিশু, প্রথম শ্রেণি, দ্বিতীয় শ্রেণি, পঞ্চম, ষষ্ট ও সপ্তম শ্রেণির ক্লাস নেয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয় দ্বিতীয় শিফট তৃতীয় শ্রেণি ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস শেষ হয় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে।

সরেজমিনে গতকাল সোমবার পুড্ডায় ওই বিদ্যালয়ের গেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার, শাবনুর ও শিরিন আক্তার, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী শেফালী আক্তার, মাসুমা ও রহিমা আক্তার বলে, এক রুমে একই সময় দুইটি শ্রেণির ক্লাস শুরু হলে আমাদের পড়ায় মনযোগ দিতে পারি না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বদরুল জানান, শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক সংকট ও আসবাবপত্র দেওয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে ও মৌখিক অনেক বলেছি। এত সমস্যা থাকার পরও প্রতি বছর বিদ্যালয়টি সমাপনী পরীক্ষায় ১০ থেকে ১২ জিপিএ ৫ পেয়ে যাচ্ছে। সরকারি বিধান হলো কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আপগ্রেড করে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়। তবে সেই বিদ্যালয়ে দুইজন বিএড শিক্ষক নিয়োগ দিবেন। কিন্তু চার বছরেও কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সেলিম মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংকট, শিক্ষক ও আসবাবপত্র সংকটসহ বিল্ডিংয়ের প্লাস্টারগুলো পড়ে গিয়ে বড়-বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় বিল্ডিং ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়গুলো আমি কয়েকবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু তাহের ভুঁইয়া বলেন, ওই বিদ্যালয়ের সমস্যার বিষয়গুলো জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু