পহেলা বৈশাখ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোকারীদের ডেকে পাঠাবে পুলিশ সদর দপ্তর। প্রথম পর্যায় পুলিশ ওই গুজব ছড়ানোকারীদের সংশোধনের সুযোগ দিয়ে মাদক ও জঙ্গি বিরোধী প্রচারণা চালানোর জন্য বলা হবে। এরপরও যদি সংশোধন না হয় তবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, পুলিশ সদর দফতরের একাধিক কর্মকর্তা।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, বাংলা নববর্ষকে ঘিরে একটি চক্র টুইটার, ইউটিউবসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে থাকে। দীর্ঘদিন যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের একটি তালিকা করেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। গত ১ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তর সম্মেলনকক্ষে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক সভায় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। পাশাপাশি তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
বৈঠকে উপস্থিত একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একটি চক্র নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলার চেষ্টা করে। তাদের নিবৃত্ত করতেই পুলিশ সদর দফতর বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া এন্ড পিআর) মোঃ সোহেল রানা বলেন, বিশেষ করে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানারকম গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করে থাকে। বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তর কঠোরভাবে মনিটর করছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, যারা পহেলা বৈশাখ নিয়ে অপপ্রচারণা চালাচ্ছে, তাদের প্রচারণার মধ্যে কোনো আপত্তিকর বক্তব্য পাওয়া গেলেই ডেকে এনে সতর্ক করে দেওয়া হবে। এরপরও যদি তারা সংশোধন না হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পহেলা বৈশাখে নিরাপত্তা
সভায় রমনা বটমূল, রবীন্দ্র সরোবর, হাতিরঝিলসহ বৃহত্ জনসমাগমস্থল এবং মঙ্গল শোভাযাত্রায় পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও গাড়ি পার্কিংয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জরুরি উদ্ধার অভিযানের জন্য পুলিশের হেলিকপ্টার নিয়োজিত থাকবে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে বড় বড় শপিং সেন্টার, মার্কেট, বাজার, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নববর্ষের হালখাতা অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রেল স্টেশন, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালসহ জনসাধারণের চলাচলের স্থানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।