জয়পুরহাটে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী পল্লীতে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা মামলার রায়ে ঘাতক ঘরজামাই সুমন হেব্রমকে (৩৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। জেলা ও দায়রা জজ বেগম মমতাজ পারভীন বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ২০জুন ভোর রাতে জেলার পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর গ্রামের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী পল্লীর একই পরিবারে ৪জন খুনের ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী সুমন হেব্রম (৩৫) নিজের স্ত্রী সিলভিয়াকে পরকীয়ার সন্দেহ করতেন। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। এরজের ধরে সুমন ঘুমন্ত অবস্থায় চাপাতি দিয়ে একের পর একজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলাকেটে ৪জনকে হত্যা করেন।
নিহত হলেন- শাশুড়ি সন্ধা রানী (৪৮), শ্যালিকা তেরেজা নরেন্দী (২৪), ছেলে সানী হেব্রম (৬) ও ফুফা শ্বশুর মার্কেল হেব্রম (৫০)।
প্রতিবেশীরা চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে এগিয়ে আসে এবং সুমনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত স্ত্রী সিলভিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সৌভাগ্যক্রমে পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে ভালো হন। শ্বশুর ম্যানিয়েল মারান্ডি বাদী হয়ে জামাইকে একমাত্র আসামি করে পাচঁবিবি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
জয়পুরহাটের জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে সুমনকে হাজির করলে খুনের দায় স্বীকার করে সুমন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। আদালত সুমনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করেন এবং ১২জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এ হত্যাকাণ্ডটিকে আদালত নির্মম, নিষ্ঠুর ও পৈশাচিক বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন। আদালত সুমনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি