হাটহাজারীতে অবাধে কুচিয়া মাছ নিধন

 
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা থেকে অবাধে নিধন করা হচ্ছে বিপন্ন প্রজাতির মাছ কুচিয়া। চাঁই দিয়ে ধরে এ মাছ রাজধানী ঢাকায় প্রেরণ করা নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও বিপুল পরিমাণ এই মাছটি নিধন করা হচ্ছে। অধিকহারে এই মাছটি নিধনের ফলে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন প্রাণী বিশেষজ্ঞরা।
 
জানা যায়, কুচিয়া অতি সুস্বাদু, স্বাস্থ্যকর ও ঔষধি গুণ সম্পন্ন এক প্রকার মাছ। আমাদের দেশে বিশেষ করে উপজাতিরা এ মাছটি বেশি খেয়ে থাকেন। সচরাচর এই জলজ প্রাণীটিকে তেমন একটা দেখা যায় না। তবে, ময়মনসিংহ জেলা থেকে হাটহাজারীতে আসা কয়েকজন শিকারি দীর্ঘ ৩ মাস ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে এই মাছ  শিকার করে আসছে। এই মাছ ধরতে এক প্রকার মাছ ধরার উপকরণ চাঁই ব্যবহার করে তারা। বাড়ির আশেপাশের ডোবা, রাস্তার পাশের বড় বড়  কচুরিপানাপূর্ণ জলাশয়ে এই চাঁই দিয়ে তারা কুচিয়া শিকার করে থাকে। চাঁইটি এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে করে এর ভিতর প্রবেশ করা কুচিয়া বের হয়ে আসতে পারে না। চাঁই এর মধ্যে একপ্রকার একটি লম্বা ধাতুর শলাকা ব্যবহার করা হয়। এতে কুচিয়ার খাবার হিসেবে কেঁচো ব্যবহার করা হয়।
 
চাঁইগুলো প্রতিদিন দুপুর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুচিয়া পাওয়ার সম্ভাব্য স্থানে বসায়। পরদিন ভোরে শিকারিরা চাঁই তুলে এর  মধ্যে আটকে থাকা কুচিয়া সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। প্রতিটি চাঁইয়ে এক বা একাধিক কুচিয়া আটকা পড়ে। কুচিয়াগুলো কয়েকটি ড্রামে সংরক্ষণ করে রাখে। শিকারিরা এসব কুচিয়া হাটহাজারী পৌর এলাকার দেওয়ান নগর আবুল কালামের ভাড়া বাসায় রাখে। প্রতি কেজি কুচিয়া ১৮০ টাকা মূল্যে প্রতি সপ্তাহের বুধ অথবা বৃহস্পতিবার এসব কুচিয়া সংগ্রহ করতে ঢাকা থেকে ব্যবসায়ীরা কিনতে আসেন। প্রতিবার ড্রামভর্তি ৭/৮শ' কেজি কুচিয়া ঢাকায় নিয়ে যান বলে শিকারিরা জানান। তবে বিপুল পরিমাণ কুচিয়া নিধনের বিষয়ে স্থানীয়রা নানান প্রশ্ন তুলছেন।
 
এ ব্যাপারে কুচিয়া ব্যবসায়ী আমজাদ জানান, এসব কুচিয়া তিনি লাকসামের কুচিয়া ব্যবসায়ী আজাদ ও ঢাকার উত্তরার রফিক নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে থাকেন। তারা এসব কুচিয়া চীন, জাপান, হংকং, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড. মালয়েশিয়ায়, দক্ষিণ কোরিয়াসহ প্রায় ১৫টি দেশে কুচিয়া রফতানি করে বলে শুনেছি।
 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, 'অধিক পরিমাণে কুচিয়া নিধন করা হলে তা ইকোসিস্টেমের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তবে সহনশীল পরিমাণে এটি আহরণ করলে পরিবেশের উপর এর কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে না।' হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য অফিসার আজহারুল ইসলাম এ বিষয়ে খবরাখবর নিবেন বলে জানান।
 
ইত্তেফাক/জামান