রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) আঁতুড়ঘর মহারাষ্ট্রের নাগপুর। এখানেই তাদের সদর দপ্তর। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নাগপুর লোকসভা আসন থেকে প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন আরএসএস ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা নীতিন গড়কড়ি। এর ঠিক পাঁচ মাস পর এই এলাকা থেকে বিধানসভা ভোটে জিতে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়নবীস। সেই আসনেই আবার লড়ছেন গড়কড়ি। তবে গতবারের চেয়ে এবার তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে । আর এ কারণে এবারের নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে, নিজ ঘরে বিজেপির সম্মান রক্ষার লড়াই হিসেবে। নীতিন গড়কড়ির প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক বিজেপি নেতা নানা পাটোলে। তিনি এবার কংগ্রেসের হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছেন। সেই কারণেই নাগপুরে লড়াইটা আর একপেশে হচ্ছে না। নানা পাটোলে কুনবি সম্প্রদায়ের লোক। আর জাতপাতের লড়াই নাগপুরে বেশ তীব্র। দলিত-মুসলিম-কুনবি ভোট এখানের ফলাফল নির্ধারণ করে।
আজ বৃহস্পতিবার প্রথম ধাপেই এই আসনে নির্বাচন হবে। নাগপুর আসনে প্রায় ২১ লাখের মধ্যে ১২ লাখের বেশি ভোটার দলিত, মুসলিম ও কুনবি সম্প্রদায়ের। এই ভোট তাদের পক্ষেই যাবে বলে কংগ্রেস নেতৃত্ব আশাবাদী। ইতিহাস বলছে, ২৮ বছর আগে কংগ্রেস শেষবার এই কেন্দ্রে কুনবি সম্প্রদায়ের দত্তা মেঘে’কে প্রার্থী করেছিল। তিনি সেবার জিতেছিলেন। বিজেপি বলছে- জাতপাত নয়, মানুষ ভোট দেবেন উন্নয়ন দেখে।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী কংগ্রেস প্রার্থী নানা পাটোলে। তার অভিযোগ, গড়কড়ি নিজের ভালোর জন্য কাজ করেছেন। নানা এক সময়কার নীতিন গড়কড়ির সহযোদ্ধা। ২০১৪ সালে পাশের ভাণ্ডারা-গোন্ডিয়া লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে লড়েছিলেন। হারিয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী কংগ্রেসের (এনসিপি) প্রফুল্ল পাটেলকে। তাকে ‘জায়ান্ট কিলার’ এর পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলে বলা হয়, চিরবিদ্রোহী। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি জাতীয় কংগ্রেসে ছিলেন। ২০০৯ সালে যোগ দেন বিজেপিতে। কৃষকের দুর্দশার প্রতি নরেন্দ্র মোদির সরকার উদাসীন, এই অভিযোগে ২০১৭ সালে বিজেপি ছাড়েন। কংগ্রেসে যোগ দিয়েই নীতিন গড়কড়ির বিরুদ্ধে লড়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। সেই ইচ্ছেকে গুরুত্ব দিয়েই কংগ্রেস ১৯৯৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টানা ৪ বার জেতা সাবেক এমপি বিলাস মুট্টেমেওয়ারকে বাদ দিয়ে নানাকে প্রার্থী করেছে।
নাগপুরে আরএসএসের সদর দফতর হলেও কংগ্রেসের দাপট ছিল প্রায় সব সময়। গড়ক?ড়ি দ্বিতীয় বিজেপি প্রার্থী যিনি নাগপুর থেকে জিতেছেন। এর আগে ১৯৯৬ সালে এই আসন থেকে জিতেছিলেন বিজেপির বনোয়ারিলাল পুরোহিত। তিনিও অবশ্য কংগ্রেস থেকেই বিজেপিতে গিয়েছিলেন। ইতিহাস বলছে, নাগপুরে গত ১৬ বারের মধ্যে জাতীয় কংগ্রেসই জিতেছে ১৪ বার। বিজেপি জিতেছে মাত্র ২ বার। এবার কি হয় সেটাই দেখার বিষয়।