জগতের যাবতীয় সংকীর্ণতা ও পঙ্কিলতার আবরণ থেকে মুক্তির বাসনায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দের ব্রহ্মপুত্র নদে আগামীকাল শুক্রবার অষ্টমী স্নান শুরু হবে। শুক্রবার বেলা ১১টায় শুরু হয়ে স্নানোত্সব চলবে শনিবার সকাল ৮টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত। ১৮টি স্নান ঘাটে দেশি ও বিদেশি ভক্তদের স্নানোত্সব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে পালন করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন লাঙ্গলবন্দ অষ্টমী স্নানোত্সব কমিটির নেতা সরোজ সাহা ও পরিতোষ সাহা।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে বন্দরের লাঙ্গলবন্দের ব্রহ্মপুত্র নদে গিয়ে দেখা গেছে, অন্যবার কচুরিপানা থাকলেও এবার সেটা দূর করা হয়েছে। স্নানের পর নারী পুণ্যার্থীদের কাপড় বদলের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ঘাটগুলোর পাশে কাপড় বদলানোর কয়েকটি ছোট রুম থাকলেও চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এছাড়াও ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার পরিছন্ন করতে দেখা গেছে। ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান স্নানোত্সব কমিটির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। জেলা প্রশাসক রাব্বি মিঞা জানান, স্নানোত্সবের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার বিকালে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ লাঙ্গলবন্দের স্নান ঘাটগুলো পরিদর্শন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, লাঙ্গলবন্দে স্নান করতে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে পুরো তীর্থকেন্দ্র এলাকা। ৮টি ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে ৩ কিলোমিটার এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হবে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নৌ-পুলিশের টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তীর্থকেন্দ্র এলাকায় প্রায় দেড় হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। পুরো এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
জানা গেছে, সেখানে ৩৩টি ধর্মীয় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন পুণ্যার্থীদের সেবা দিতে ক্যাম্প স্থাপন করছে। এসব ক্যাম্প থেকে পুণ্যার্থীদের রান্না করা খাবার প্রদান ও চিকিত্সা দেওয়া হবে। লাঙ্গলবন্দ স্নানোত্সব কমিটির সভাপতি সরোজ সাহা জানান, এবার আড্ডা শ্যামপুর ঘাট, ললিত সাধুর ঘাট, অন্যপূর্ণ ঘাট, রাজ ঘাট, কালীগঞ্জ ঘাট, মাকুঁড়ি সাধুর ঘাট, মহাত্মা গান্ধী ঘাট, ভদ্রেশ্বরী ঘাট, জয়কালী ঘাট, রক্ষাকালী ঘাট, প্রেম তলা ঘাট, চর শ্রীরাম ঘাট, সাবদি ঘাট, বাসনকালী, শিবমন্দির ঘাট, মনোজকান্তি বড়াল ঘাট, নাসিম ওসমান ঘাট ও জগত্বন্ধু ঘাটে স্নানোত্সব হচ্ছে। লাঙ্গলবন্দ স্নানোত্সব উদযাপন পরিষদের সভাপতি সরোজ কুমার সাহা বলেন, ‘পুণ্যার্থীদের জন্য ১০০টি অস্থায়ী পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, ৬০টি গভীর নলকূপসহ ট্যাংকের সাহায্যে অস্থায়ী বিশুদ্ধ জল সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে। পুণ্যার্থীদের কাপড় বদলের জন্য বড়ো করে অস্থায়ী প্যান্ডেল করা হবে। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ। আশা করি শান্তিপূর্ণভাবে স্নানোত্সব পালন করতে পারবেন ভক্তরা।’