মানিকগঞ্জ পৌর এলাকাধীন উত্তর সেওতা এলাকায় এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের বসতভিটা দখল নিতে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। আজ রবিবার সকালে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সম্মেলনে নিলুফার শিরিন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন । তিনি বলেন, ‘আমি বিধবা নারী ও একজন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী। আমার প্রতিবন্ধী ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে এই পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েছি। আমার স্বামীর কেনা বসতভিটা থেকে তাড়িয়ে দিতে আবদুর রব ও তাঁর ভাইয়েরা ওঠেপড়ে লেগেছে। উত্তর সেওতা মৌজায় ১১২ নম্বর দাগে আট শতক জমি ওয়ারিশ সূত্রে পান মাজেদা বেগম। ১৯৯৯ সালের ১৯ নভেম্বর মাজেদা ১২ হাজার টাকায় সেই জমি মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেনের কাছে বিক্রি করে।
এ সময় বায়না দলিলমূলে ওই জমির মালিক হন কামাল হোসেন। এরপর তিনি সেখানে আধাপাকা নির্মাণ করে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে সেখানে বসবাস করেন। ইতিমধ্যে জমির রেজিস্ট্রি দলিল করে দিতে বললে মাজেদা বেগম কালক্ষেপণ করতে থাকেন। এরই মধ্যে ২০০৬ সালে স্ত্রী নিলুফার শিরিন, শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে নূরুজ্জামান নয়ন এবং দুই মেয়ে সানজানা কামাল ও জান্নাতুল ফেরদৌসকে রেখে কামাল হোসেন মারা যান।
তিনি আরো বলেন, রেজিস্ট্রি দলিল না করে দেওয়ায় ওই জমি অন্য কারো কাছে বিক্রি করতে না পারেন এ জন্য ২০০৯ সালের ১৫ জুলাই তিনি (নিলুফার) মাজেদা বেগমের বিরুদ্ধে সদর সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন।মামলার নং(১২০/২০০৯)। মামলায় ওই জমির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন আদালত। তবে গোপনে মাজেদা অর্থের বিনিময়ে ওই জমি স্থানীয় জনৈক আবদুর রবকে দলিল করে দেন। এ কারণে গত ২০১৩ সালে ওই জমির দলিল প্রাপ্তিতে আদালতে আরেকটি মামলা করেন তিনি (নিলুফার)। বর্তমানে মামলাটি চলমান আছে।
IMG0
সংবাদ সম্মেলনে নিলুফার আরও বলেন, গত ২৪ নভেম্বর সকালে ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে আবদুর রব ও তাঁর বড় ভাই তারা মিয়া তাঁর বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় বাঁধা দিলে তাঁকে ও তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলে নূরুজ্জামানকে হুমকিধমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর আধাপাকা ঘরের অর্ধেক অংশ ভেঙে ফেলে। ঘরের ভেতরে থাকা আট ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া গৃহস্থালির বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। এতে তাঁর সাত থেকে আট লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়টি পরে মানিকগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়টি তদন্তাধিন আছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত বৃহস্পতিবার মাজেদার বেগমের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেছেন।
এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও মাজেদা বেগমের মুঠোফোন নম্বর পাওয়া যায়নি। তিনি ঢাকায় থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি। এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আবদুর রব বলেন, মাজেদার কাছ থেকে ওই জমি কিনেছেন। কিন্তু এতোদিন অবৈধভাবে ওই জায়গায় ঘর তুলে কামাল হোসেন ও তাঁর পরিবার বসবাস করে আছিলেন। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে ২০০০ সালে জেলা দায়রা ও জজ আদালতে মামলা করেন। সম্প্রতি মামলাটি সিঙ্গাইর সহকারী জজ আদালতে নিষ্পত্তি হয় এবং আদালত উচ্ছেদের রায় দেন। এর প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে একটি আধাপাকা ঘরের কিছু অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়। লুটপাটের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
ইত্তেফাক/আনিসুর