মায়ের বিরুদ্ধে মেয়েকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ

 
রাজশাহীর মোহনপুরে নিজের ১ মাস ৪ দিনের ঘুমন্ত কন্যাশিশুকে ভাঙা টয়লেটের প্যানের পানিতে ফেলে হত্যা করেছেন এক মা।
 
সোমবার ভোরে উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের টেমা স্কুলপাড়া গ্রামের এই ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে শিশুটির দাদা তানোর উপজেলার চান্দুরিয়া গ্রামের মফিজ উদ্দিন মোহনপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ শিশু কন্যার মা জহুরা ওরফে মেঘনা বেগমকে (২২) গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
 
মোহনপুর থানার ওসি (তদন্ত) আফজাল হোসেন বলেন, উপজেলার টেমা স্কুলপাড়া গ্রামের ইসলাম আলীর মেয়ে জহুরা ওরফে মেঘনা বেগমের (২২) সাথে ৩ বছর আগে তানোর উপজেলার চান্দুড়িয়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমানের বিয়ে হয়। একবছর পর তাদের প্রথম কন্যা হাফিজা খাতুনের (বর্তমান বয়স ২ বছর) জন্ম হয়। এরপর দ্বিতীয় সন্তান জন্মের আগে মেঘনা পৈতৃক বাড়ি মোহনপুরের টেমা স্কুলপাড়া গ্রামে যান। সেখানে গত ১ নভেম্বর ২য় কন্যাসন্তান হামিদা ওরফে খাদিজা খাতুনের জন্ম হয়।
 
রবিবার মামলার বাদী মফিজ উদ্দিন তার ছেলে হাবিবুরকে স্ত্রী-সন্তানদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য শ্বশুর বাড়িতে (মেঘনার পিতার বাড়ি মোহনপুরে) পাঠান। ওইদিন দিনক্ষণ ঠিক করার পর হাবিবুর প্রথম সন্তান হাফিজাকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যান। 
এদিকে দ্বিতীয় সন্তান মেয়ে হওয়ার ক্ষুব্ধ মা মেঘনা সোমবার ভোরে ঘুমন্ত শিশুকন্যা হামিদা ওরফে খাদিজাকে বাবার বাড়ির শয়ন কক্ষের দক্ষিণের টয়লেটের ভাঙা প্যানের পানিতে ফেলে দেন। কিছুক্ষণ পর টয়লেট হতে শয়ন কক্ষে ফিরে মেঘনা তার মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছে না বলে চিৎকার শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে প্রতিবেশিরা বাড়ির পাশের টয়লেটের ভাঙা প্যানের পানিতে শিশুটিকে ভাসতে দেখেন। তারা শিশুটিকে তুলে দেখেন সে আগেই মারা গেছে। এ খরব পেয়ে নবজাতকের দাদা মফিজ ও পিতা হাবিবুর মোহনপুর থানাকে ঘটনা জানায়। পরে পুলিশ নবজাতকের মা মেঘনাকে আটক ও নবজাতকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
 
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবুল কাশেম আজাদ বলেন, ঘাতক মা মেঘনা বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি