জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ছাত্র-ছাত্রীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। স্বাধীন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আর পরাধীন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এক নয়। স্বাধীন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আগামী প্রজন্মের জন্য নেতৃত্ব, যোগ্যতা তথা গুণাবলি সৃষ্টি হবে।
তিনি গতকাল সোমবার বিকালে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি উপজেলা সদরে ইন্দুরকানি মহাবিদ্যালয়ের নবীন বরণ উত্সবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরো বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন এসেছে তা অত্যন্ত আনন্দ ও সুখের খবর। শিক্ষা ব্যবস্থাকে জীবন ও সমাজের ক্ষেত্রে সম্পৃৃক্ত করতে ব্যর্থ হলে সমাজ ও রাষ্ট্রের উপকার করা সম্ভব হয় না। সরকারের বিঘোষিত নীতি হচ্ছে প্রতি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজকে জাতীয়করণ করা। যা সরকার ক্রমান্বয় বাস্তবায়িত করছে। শিক্ষার হার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্কুল-কলেজ সমূহে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা অর্জনের উপযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ জন্য যে নতুন নতুন ভবনের প্রয়োজন সেদিকে লক্ষ্য রেখে স্কুল-কলেজ সমূহের নতুন নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এই কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা গ্রহণ উপযোগী ভবন নির্মাণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে এবং নতুন নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি নবীনদের উদ্দেশ্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা একটি স্বাধীন দেশ দিয়ে গেলাম। আগামীতে যে নতুন নেতৃত্বে আসবে তারা কাজের রাজনীতি, উন্নয়নের রাজনীতিতে ব্রতী হবে। স্বাধীনতা পূর্বের এবং পরের রাজনীতি এক হতে পারে না। স্বাধীন দেশে রাজনীতি হলো উন্নয়নের রাজনীতি। পরাধীন আমলের শ্লোগান ছিল জ্বালাও-পোড়াও তথা নেতিবাচক, এখনকার শ্লোগান হতে হবে উন্নয়নের। স্বাধীন দেশে অপরাজনীতি চর্চা করার কোনো সুযোগ নাই। সুস্থভাবে শান্তি-শৃঙ্খলার সঙ্গে বসবাসের জন্য মানুষ লড়াই করেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় সকলের সুখে-শান্তিতে বাস করার উপযোগী সমাজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ইন্দুরকানি কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আক্তারুজ্জামান তালুকদার সগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন নবীন শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান, ছাত্রলীগের সভাপতি শাহীন হাওলাদার, যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক আহাদুল ইসলাম শিমুল, যুবলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, কলেজের সহকারী অধ্যাপক শারমীন আক্তার ও সহকারী অধ্যাপক মো. জাকারিয়া। এসময় মঞ্চে ছিলেন ইন্দুরকানি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিব আহমেদ, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইকরামুল কবীর তালুকদার মজনু, কলেজ অধ্যক্ষ মুনিরুজ্জামান সিকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এম মতিউর রহমান, উপজেলা জেপি’র সভাপতি আসাদুল কবির স্বপন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মৃধা প্রমুখ।
অতিথিদের মধ্যে আরো ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, ইন্দুরকানি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফায়জুল কবির তালুকদার, ভাণ্ডারিয়ার ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান টুলু, পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, পাড়েরহাটের ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল, বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন বয়াতি প্রমুখ।
বিকালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পাড়েরহাটে স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বরাদ্দ করে সে সব প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন হয় কি না তার প্রতি নজরদারি করতে হবে। আইন-কানুন মেনে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা উচিত। রাষ্ট্রের অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। যদি কেউ তা করেন ভবিষ্যতে তাদের জবাবদিহিতার জন্য তৈরি থাকতে হবে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, সরকারি কাজে কেউ বাধা দিয়ে রক্ষা পাবেন না। উন্নয়নের জন্য সরকারকে সহযোগিতা করা দরকার। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আমরা পাড়েরহাটে একটি নতুন সেতু নির্মাণের কথা বলেছিলাম, আজকে তার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে সে কথা আমরা রেখেছি। আইন শৃঙ্খলা নিয়ম কানুন বজায় রেখে সবাই বসবাস করলে আগামীতে এ উন্নয়ন ধারা অব্যাহত থাকবে বলে পরিবেশ মন্ত্রী প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি পাড়েরহাট-হুলারহাট ভায়া রানীপুর সড়কের ৩০০ মিটার চেইনেজে পাড়েরহাট বাজার সংলগ্ন খালের ওপর প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ব্রিজ নির্মাণ করছে। এ ছাড়া মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বিকালে পৃথকভাবে ইন্দুরকানি উপজেলার চালনা খালের ওপর হোগলাবুনিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইজ গেটের প্রতিরক্ষামূলক কাজ, সড়ক বিভাগের টগড়া-ইন্দুরকানি-বালিপাড়া-কলারণ-সন্যাসী সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ (পিএমপি-মেজর), ইন্দুরকানি বাজার থেকে কালাইয়া নতুন বাজার পর্যন্ত জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের একটি সড়ক নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
দুপুরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বিআইডব্লিউটি’র ভান্ডারিয়া উপজেলায় চরখালী রকেট/লঞ্চ ঘাটে যাত্রী ছাউনি, পার্কিং ইয়ার্ড, গ্যাংওয়ে ও শেডেড ওয়াকওয়ে কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জ্বল, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান চৌধুরী, জেলা পরিষদের সদস্য রেজাউল হক রেজভী জোমাদ্দার, সমাজ কর্মী ইউসুফ আলী আকন, মেজবাহ উদ্দিন আরিফ জোমাদ্দার, বিআইডব্লিউটি’র সহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/নূহু