জেলার শস্যভাণ্ডার খ্যাত নন্দীগ্রাম উপজেলায় বছরে ৩ বার ধানের চাষাবাদ হয়। আমন ধান কাটার পর ফসলী জমিতে রবিশস্য’র চাষাবাদ করে এখানকার কৃষকরা। চলতি আমন মৌসুমে ধান কাটা মাড়াই প্রায় শেষ। উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন মাঠে কৃষকরা এখন আলু চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।
গত বছর উপজেলার আলুর বাম্পার ফলন হলেও লাভবান হতে পারেনি আলু চাষীরা। আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় তাদের লোকসান গুণতে হয়েছে।
উপজেলার বেশির ভাগ কৃষক বিভিন্ন বেসরকারি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন। গত বছর আলুর ন্যায্য মূল্য না পেয়ে অনেক কৃষক ঋণের টাকা এখনও পরিশোধ করতে পারেননি। তাই এবার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আলু চাষে মাঠে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। গত বছরের লোকসান থেকে মুক্তি পেতে এবার বাড়তি ঝুঁকি নিচ্ছেন তারা।
আলু চাষীরা লাভের আসার আলু স্টোরে সংরক্ষণ করে। সেখানে প্রতি বস্তা আলু ক্রয় ও স্টোর ভাড়া বাবদ ১৩০০ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এক বস্তা আলু বিক্রয় হচ্ছে মাত্র ৪০০ টাকায়। এতে করে আলু চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা য়ায়, এ বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ছয় হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ গিয়ে আলু চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা গতবারের লোকসান পুষে নিতে লাভের আশায় এবারও আলু চাষ করছে। তুলাশন গ্রামের আলু চাষী আব্দুল করিম বলেন, আমি প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করছি। গত বছর আমার অনেক লোকসান হয়েছে। আশা করছি এবার কোন ধরনের সমস্য না হলে লাভবান হতে পারবো।
কহুলী গ্রামের আলু চাষী সাইফুল ইসলাম বলেন, আলু চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। গতবার আলু চাষ করে অনেক টাকা লস হয়েছে। তারপরও গত বছরের ক্ষতি পুষে নিতে এবারও আলু চাষ করছি। তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাদের আলু চাষের প্রয়োজনীয় সকল প্রকার পরামর্শ দিচ্ছে। এতে করে আমরা উপকৃত হচ্ছি।
কথা হয় বিএডিসি’র পরিবেশক জিয়া এন্টারপ্রাইজ এর সত্ত্বাধিকারী জিয়াউর রহমানের সাথে তিনি বলেন, গত বছর অনেক চাষীকে আলুর বীজ বাঁকি দিয়ে ছিলাম। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত সম্পন্ন টাকা পরিশোধ করতে পারেনি। আলুর দাম কম থাকায় আলুচাষীরা অসহায় হয়ে পরেছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা কৃষকদের সঠিক মূল্যে আলু বীজ সরবরাহ করছি। তবে গত বছরের চেয়ে এবার আলুর বীজের চাহিদা কম।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোহা. মুশিদুল হক জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আলু চাষীদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবারও আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আলু চাষের জমি গুলোর উর্বরতা বেশী থাকায় ইরি-বোর চষে এর সুফল পাবে চাষীরা।
ইত্তেফাক/এএম।