মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান-নিমতলা সড়কের রশুনীয়া নামক স্থানে রশুনীয়া (সেতু-২) সেতুটি পাথর বোঝাই ট্রাকসহ ভেঙে পড়েছে। মঙ্গলবার ভোর ৪ টায় ৫৫ টন পাথর বোঝাই ট্রাকটি সিলেট থেকে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে টঙ্গীবাড়ি ও সিরাজদিখান উপজেলা সদরের সাথে সরাসরি বাস চলাচলসহ সকল ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
জানা যায়, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের নিমতলী হতে সিরাজদিখান উপজেলা পর্যন্ত এ রুটের সবকটি বেইলী ব্রিজ কনক্রিটের ব্রিজে পরিণত করার কাজ হাতে নিয়েছে সড়ক ও সেতু বিভাগ। রশুরিয়ায় ব্রিজ নির্মানের কাজ চলছে। নির্মিতব্য ওই ব্রিজটির পাশে একটি ডাইভেশন বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ব্রিজটি দিয়ে সর্বোচ্চ ২৫ টন ওজন নিয়ে চলাচলের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু ট্রাকটিতে ৫৫টন পাথর বোঝাই ছিল। অতিরিক্ত ওজনের কারণে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে।
এ ঘটনায় টঙ্গীবাড়ি ও সিরাজদিখানের পূর্বাঞ্চলের লোকজনের ঢাকার সাথে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অপর দিকে সিরাজদিখানের পশ্চিমাঞ্চলের ৬টি উপজেলার লোকজন উপজেলা সদর ও জেলা শহর মুন্সীগঞ্জের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
ব্যবসায়ী ও কৃষিকাজে পন্য পরিবহনে নেমে এসছে দুর্ভোগ। এসব লোকজনকে এখন ঢাকায় যেতে হলে প্রায় ২০ কিমি ঘুরে ইছাপুরা হয়ে শ্রীনগর ছনবাড়ি দিয়ে ঢাকা-মাওয়া মহসড়ক হয়ে ঢাকায় যেতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (কেরানীগঞ্জ) এস বি মো. সৈয়দ আলম জানান, এই ভাইভারশন ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল হালকা যানবাহন চলাচল করার জন্য। কিন্তু ধারণ ক্ষমতার অধিক মাল লোড করে ট্রাকটি ব্রীজটির উপর দিয়ে যাওয়ায় এটি ভেঙে পড়ে। অতি শ্রীঘ্রই ট্রাকটি উদ্ধার করে বেইলি ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করা হবে।
তিনি আরোও জানান, উপজেলার সকল বেইলি ব্রিজ সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এই ব্রিজটি সচল করতে হয়তো ৭ থেকে ৮ দিন সময় লাগবে।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ট্রাকের চালক ও হেলপার পলিয়ে গেছে।
ইত্তেফাক/নূহু