বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দেশকে দুর্নীতিতে পরপর টানা পাচঁবার চ্যাম্পিয়ান বানিয়েছিল। আর এখন তিনি নিজেই দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত 'বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিদেশে পাচারকৃত অর্থ-সম্পদ দেশে ফেরত আনার দাবীতে' এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে পরপর টানা পাচঁবার চ্যাম্পিয়ন করে বাংলাদেশের মানুষকে বিশ্ববাসীর কাছে লজ্জা এবং ঘৃনার পাত্রে পরিনত করেছিলেন। এখন বেগম জিয়া নিজেই দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তার দুর্নীতি সৌদি যুবরাজদের মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে। সৌদিআরবে যে ১১ জন যুবরাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে দুইজন স্বীকার করেছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের তৎখালীন সরকার প্রধান এবং রাষ্ট্র প্রধানদের কাছ থেকে তারা অর্থ পেয়েছেন তাদের মধ্যে বেগম জিয়া, তার পুত্র তারেক রহমান, আরাফাত রহমান কোকো এবং বেগম জিয়ার ভাই সাঈদ ইসকান্দর।
খালেদা জিয়ার অবৈধ অর্থ বিদেশ থেকে ফেরত আনার দাবি জানিয়ে আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যেভাবে সিঙ্গাপুর থেকে আরাফাত রহমান কোকোর টাকা ফেরত আনা হয়েছে, যেভাবে তারেক রহমানের টাকা ফেরত আনা হয়েছে একই পদ্ধতিতে বেগম খালেদা জিয়ার বিরোদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে যোগাযোগ করে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সেই সম্পত্তির বিক্রিত অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সৌদিআরবে বাণিজ্যিক ভবন, কাতারে শপিং মলসহ ১২টি দেশে সম্পত্তি রয়েছে। বেগম জিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি দুর্নীতিবাজ। যখন বেগম জিয়া কালো টাকা সাদা করেছেন তখনই তিনি স্বীকার করেছেন তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন। সুতরাং যিনি আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী তার দুর্নীতি বিদেশে ধরা পড়েছে। তার বিরোদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হোক এটি আজকে জনগণের প্রত্যাশা।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া যখন দুর্নীতিতে বিদেশে ধরা পড়েছে তখন আপনারা চুপসে গেছেন। আপনাদের মুখে কোন কথা নাই। এটি যদি আজ দেশের কোন পত্রিকা প্রকাশ করতো তাহলে আপনারা বলতেন এটা সরকারের ষড়যন্ত্র। এখন আর কিছুই বলতে পারছেন না। কারণ বিদেশের মিডিয়া গুলোতে খালেদা জিয়ার অবৈধ অর্থের কথা প্রকাশ করেছে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি লায়ন চিত্ত রঞ্জন দাশের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সবেক স্ব-রাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ্যাড. শামসুল হক টুকু, ব্যারিষ্টার জাকির হোসাইন, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিম, অরুন সরকার রানা প্রমুখ।
ইত্তেফাক/ইউবি