মনপুরায় বনাঞ্চলের গাছ কেটে উজাড়

 
ভোলার মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ক্রসড্যাম সংলগ্ন রাস্তার দুপাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে উজাড় করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। ওই বনাঞ্চলের কয়েক হাজার কেওড়া গাছ কাটা হয়েছে। এমনকি বনের ভিতর ঘের তৈরি করে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করাও হচ্ছে বলে জানা গেছে।
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দিনের বেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে বাঁধ দিয়ে ঘের করছে প্রভাবশালী চক্রটি। ঘেরে মাছ ছাড়ার জন্য পানির পাম্প দিয়ে পানি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও বনের ভিতরে একাধিক পুকুর খনন করে মাছ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রভাবশালীরা। বনের ভিতরে গিয়ে দেখা গেছে- কেটে নেওয়া গাছের অসংখ্য গোড়া পড়ে রয়েছে। কাটা কেওড়া গাছ গুলি একটি পুকুরে জমা করছে প্রভাবশালীরা। বনবিভাগ সেগুলো দেখেও না দেখার ভান করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
 
এ বিষয়ে অভিযোগ করে হাজিরহাট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বনবিভাগের উদাসীনতা ও প্রশাসনের নীরবতার কারণে প্রভাবশালীরা দিনে-দুপুরে ক্রসড্যাম সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে উজাড় করছে। এতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হরিণের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পর্যটন শূন্য হয়ে পড়ছে মনপুরা। এছাড়াও পরিবেশ বিপর্যয় হয়ে নদীভাঙন ব্যাপক বেড়ে গেছে।
 
সংরক্ষিত বনাঞ্চল লিজ নেওয়ার দাবী করে অভিযুক্ত আবুল কালাম বলেন, 'আমরা ৭-৮ জন কোড়ালিয়া বিট থেকে তিন বছরের জন্য লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছি।'
 
কোড়ালিয়া বিট কর্মকর্তা সোয়েবুর রহমান বলেন, 'সংরক্ষিত বনাঞ্চল লিজ দেওয়ার এখতিয়ার কোন বিট কর্মকর্তার নেই। আমরা কাউকে লিজ দেয়নি। তবে কারা এই কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।'
 
IMG0
 
বনাঞ্চলের ভিতরে পুকুর খননকারী অভিযুক্ত মানিক বলেন, 'বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে পুকুর খনন করছি।' এই ব্যাপারে উপজেলা বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সুকুমার শীল বলেন, 'সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পুকুর ও ঘের করতে কাউকে লিজ বা অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে প্রভাবশালীরা জোর করে বনের ভিতরে ঘের ও পুকুর খনন করছে। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নিতে বলেছি।'
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোহাগ হাওলাদার বলেন, 'বনবিভাগের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
 
ইত্তেফাক/জামান