অসম সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক মো. আব্দুল জলিল ওরফে রকেট জলিলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন যশোর-২ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির। মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি।
মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, ‘বীর প্রতীক মো. আব্দুল জলিল যশোরে ‘রকেট জলিল’ নামেই খ্যাত। একাত্তরের রণাঙ্গনে হানাদার বাহিনীর কাছে ছিলেন মূর্তিমান এক আতঙ্ক। ১৯৭১ সালে একই দিনে তিনি ৪/৫ জায়গায় অপারেশনে নেতৃত্ব দিতেন। এ কারণে তার নামের সঙ্গে রকেট নামটি ছড়িয়ে পড়ে। অল্পসময়ে দ্রুত কাজ করার কারণেই খান সেনারা ওই সময় বলত, ‘রকেট হ্যায় না কিয়া হ্যাঁয়!’। ঐ সময় স্থানীয় ৪জন জলিল নামের ব্যক্তিকে ‘রকেট জলিল’ ভেবে হত্যা করেছিল পাকিস্তান সেনারা।’
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৬ সালে ‘বীরপ্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয় মো. আব্দুল জলিলকে। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের মনোরম একটি গ্রামের নাম পাল্লা। ১৯৬৩ সালে এই গ্রামের মহর আলী মোড়ল আর চেয়ারবানুর ঘরে জন্ম আব্দুল জলিলের। স্থানীয় স্কুলেই লেখাপড়া। ১৯৬৩ সালের দিকে তিনি মুজাহিদ কোম্পানিতে যোগ দেন। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মুজাহিদ কোম্পানি থেকে কেউ সেনাবাহিনী, কেউ পুলিশ কিংবা ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস-ইপিআরে যোগ দেন। আব্দুল জলিল ১৯৬৮ সালে ইপিআরে যোগ দেন সিপাহী পদে।
৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা শুনেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ যোগ দেন ইপিআরের রাজশাহী অঞ্চলে কর্মরত এই জওয়ান। ২৮ মার্চ তিনিসহ চারজন চারটি রাইফেল নিয়ে রাজশাহী থেকে প্রথমে যশোরে, এরপর একইদিনে বেনাপোলে ক্যাম্পে গিয়ে যোগ দেন। রাতেই মার্চ করেন যশোরের চাঁচড়া ক্যাম্পে। মুক্তিযুদ্ধের সময় গণপরিষদ সদস্য বঙ্গবন্ধুর ‘সাব্বাস চেয়ারম্যান’ মোহাম্মদ আবুল ইসলাম ছিলেন স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। তিনি যশোর-২ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনিরের পিতা। আবুল ইসলামের নেতৃত্বে ফিল্ড-কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করেছিলেন মো. আব্দুল জলিল ।
ইত্তেফাক/সাব্বির