জয়পুরহাটে রেলের ১২টি লেভেল ক্রসিংয়ে নেই গেটম্যান

 
জয়পুরহাট জেলার ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের ২৩টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ১২টিতেই কোন গেটম্যান নেই। এতে অরক্ষিত ওই রেলপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও সাধারণ মানুষ। রেল কর্তৃপক্ষ 'সাবধান গেটম্যান নাই নিজ দায়িত্বে এই লেভেল ক্রসিং পার হবেন' লেখা সম্বলিত সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছেন।
 
রেল বিভাগ জানায়, জয়পুরহাটের গেটম্যানবিহীন লেভেল ক্রসিংগুলো হচ্ছে জয়পুরহাট সদর উপজেলার অধীন কাশিয়াবাড়ি (ই-৮৩) সহ নারায়ণপাড়া, সাহাপুর, জেলা শহরের ডাকবাংলো-চিনিকল সড়কের ক্রসিং, জয়পুরহাট-পাঁচবিবি সড়কের পুরানাপৈল (ই-৮৫), পাঁচবিবি টেক্সটাইল মিল (ই-৮৭), পাঁচবিবি সদরের ই-৯১, ই-৯২ ও ই-৯৩, পাঁচবিবির ইউএনও অফিস সংলগ্ন ক্রসিং। জেলার আক্কেলপুর উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম স্টেশন থেকে পাঁচবিবির আটাপাড়া পর্যন্ত  ৪৭ কিলোমিটারে লেভেল ক্রসিং রয়েছে ২৩টি। যার ১২টিতেই কোন গেটম্যান নাই।  পশ্চিমাঞ্চল রেলের বগুড়ার সান্তাহার জংশন থেকে দিনাজপুরের বিরামপুর পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার রেলপথে লেভেল ক্রসিং রয়েছে ১০৯টি। ঝুঁকিপূর্ণ এসব লেভেল ক্রসিংয়ে গত ১১ বছরে নানা দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৬৫ জন নিহত হলেও গেট নির্মাণ অথবা নিয়োগ দেওয়া হয়নি কোন গেটম্যান।
 
পশ্চিমাঞ্চল রেলের বগুড়ার সান্তাহার জংশন থেকে দিনাজপুরের বিরামপুর পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার রেলপথে ১০৯টি লেভেল ক্রসিংয়ে ৯৬টিতেই গেটম্যান নেই। এরমধ্যে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম স্টেশন থেকে পাঁচবিবির আটাপাড়া পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটারে লেভেল ক্রসিং রয়েছে ২৩টি। যার ১২টিতেই গেটম্যান নাই। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সব লেভেল ক্রসিং দিয়ে চলাচল করছে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন। সান্তাহার-বিরামপুর রেলপথে এমন ছয়টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। যা নির্মাণে রেল বিভাগ থেকে কোন অনুমোদন নেওয়া হয়নি। অনুমোদনবিহীন ওই ছয়টি লেভেল ক্রসিংয়ের বিষয়ে পৃথক মামলাও করা হয়েছে বলে জানা যায়।
 
এ প্রসঙ্গে জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, 'গুরুত্বপূর্ণ ওই পাকা সড়কের উভয় পাশে স্পিডব্রেকার দেওয়া হয়েছে। জয়পুরহাট হয়ে রাজশাহী দিনাজপুরগামী ভারী ট্রাক ও দূরপাল্লার বাস ওই পথে চলাচল করছে। কিন্তু ওই লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।' জয়পুরহাট রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শওকত আলী বলেন, জয়পুরহাট শহরের প্রধান সড়ক দক্ষিণ পাশের তেঘর এলাকায় দুটি লেভেল ক্রসিংয়ে গেট নির্মাণের পাশাপাশি একাধিক গেটম্যান কাজ করছেন। এ দুটি লেভেল ক্রসিং রেলবিভাগের অনুমোদিত।
 
পশ্চিমাঞ্চল রেলের হিলি প্রকৌশল ওয়ার্কসের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফখরুল ইসলাম বলেন, 'আক্কেলপুরের আমুট্ট লেভেল ক্রসিংয়ের গেট নির্মাণের কাজ চলছে। এ ছাড়া বগুড়ার সান্তাহার জংশন থেকে দিনাজপুরের বিরামপুর পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার রেলপথের ১০৯টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ ১৮টি লেভেল ক্রসিংয়ে ঘর নির্মাণ করার কাজ শুরু হয়েছে। গত নভেম্বর মাসে গেটম্যান নিয়োগেরও কথা ছিল। কিন্তু অস্থায়ীভাবে কাজ করা গেটম্যানরা আদালতে মামলা করার কারণে আপাতত তা বন্ধ রয়েছে। রেলপথে মানুষের চলাচল সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে দ্রুত কাজ হচ্ছে বলে জানান তিনি।
 
ইত্তেফাক/জামান