ঢাকায় পাবলিক হেল্থ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বাংলাদেশ পাবলিক হেল্থ ফাউন্ডেশনের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলেক্ষ্য দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং স্বাস্থ্যমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকার মহাখালীস্থ 'কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স' এ ৮ ও ৯ তারিখে এ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ড. সৈয়দ সাদ আন্দালীব এবং পাবলিক হেল্থ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন প্রফেসর ড. ফাতেমা আশরাফ।

বাংলাদেশ পাবলিক হেল্থ ফাউন্ডেশনের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা’।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোস্তাক হাসান মোঃ ইফতেখার, চেয়ারম্যান, বিএসসিআইসি,  ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব প্রিভেন্টিভ এন্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম) এর পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ বায়জিদ খুরশিদ রিয়াজ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিন এশিয়ার সাবেক উপদেষ্টা ও পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর এম মোজাহেরুল হক।

স্বাগত বক্তব্য দেন পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান প্রসেফর ডাঃ ফাতেমা আশরাফ। তিনি বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার যে লক্ষ্য সামনে নিয়ে আমরা এগোচ্ছি সেখানে অর্থনৈতিক চাপ ছাড়াই প্রত্যেক নাগরিকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় যারা নিয়োজিত আছেন, সরকার, উন্নয়ন অংশীদারগণ এবং জনগনের একীভূত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই সবাইকে সুস্বাস্থ্যের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। জনগনকে নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্যাদি জনগনের হাতে পৌছে দিতে হবে। অধ্যাপক মোজাহেরুল হক বলেন, এমন কোন দেশ নাই যেখানে দেশের উন্নতি হয়েছে উন্নত জনবল ছাড়া। আমাদেরকেও সমৃদ্ধ বাংলদেশ গড়তে হলে সকলের সুস্থাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনের সিইও ডাঃ সমীর কুমার সাহা।  

পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের নানা কর্মকান্ডের উপর বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন প্রফেসর ডাঃ শারমিন ইয়াসমিন। বিগত বছরগুলোতে পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে গ্রাম ও শহর উভয় স্থানে নানা রকম কাজ করেছে।
 
অনুষ্ঠানে জনস্বাস্থ্যের তথা গণমানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন তাঁদের মধ্যে দুইজনকে পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে “জনস্বাস্থ্য পুরস্কার-২০১৭” তুলে দেয়া হয়। এবছর এ সম্মানিত পুরষ্কারে ভূষিত হন প্রফেসর ডাঃ টি এ চৌধুরী এবং জনাব ভাস্কর ভট্টাচার্য।

অনুষ্ঠানে “সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার” উপর প্রথম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের “স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট”-এর সাবেক মহাপরিচালক জনাব আসাদুল ইসলাম। দ্বিতীয় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ডাঃ হাফিজা আরজুমান, সাবেক ফ্যাকাল্টি এস ই জি ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া। তৃতীয় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর এন ডাল্টন, প্যাথলজিস্ট এবং প্রধান, এসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল জেনেটিক সায়েন্স, ইউকে।

দুইদিনব্যাপী এই সম্মেলনে প্রায় ১২টি সেশনে গবেষকগণ তাঁদের গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল উপস্থাপন করবেন। হেলথ সিস্টেম/স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, সংক্রামক রোগ, অসংক্রামক রোগ, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ডেন্টাল হেলথ, অকুপেশনাল হেলথ, মেন্টাল হেলথ ইত্যাদি বিষয়ে সেশন গুলোতে আলোচনা করা হয়।
   
দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে পাবলিক হেল্থ ফাউন্ডেশন এবার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। যার মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল একটি বিশেষ স্বাস্থ্য মেলা।
মেলার উদ্দেশ্য ছিল, স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে উদ্ভাবনীমূলক কার্যক্রমগুলোকে জনসম্মুখে তুলে ধরা।

মেলায় সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর, বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. এম শমসের আলী।

ইত্তেফাক/নূহু