বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য দুর্নীতিবাজদের পক্ষে নির্লজ্জ আস্ফালন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ।
আজ রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থা আয়োজিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস-২০১৭ উপলক্ষে মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জিয়া পরিবারের দুর্নীতির খবর নতুন নয়। সিঙ্গাপুরে কোকোর দুর্নীতি ধরা পড়েছিল। এফবিআই এসে তারেকের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিল। খালেদা জিয়া নিজেই জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করে স্বীকার করে নিয়েছিলেন তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেছেন। সুতরাং তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি এবং তার পরিবার দুর্নীতিবাজ।
তিনি বলেন, যখন আরাফাত রহমান কোকোর দুর্নীতি ধরা পড়লো এবং যখন তারেকের দুর্নীতির খবর বের হলো তখনও বিএনপি নেতারা এই ধরনের আস্ফালন এবং সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলো এগুলো মিথ্যাচার কিন্তু পরবর্তীতে সেগুলো প্রমাণিত হয়েছে। আর এখনও তাই মির্জা ফখরুলকে বলব, অন্য কাউকে দোষারোপ না করে সম্প্রতি প্রকাশিত আপনার নেত্রীর দুর্নীতিগুলো ও তার ছেলেদের পূর্ব প্রকাশিত দুর্নীতিগুলোর জন্য আপনার নেত্রীকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলামকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনার নেত্রীকে বলুন তিনি যে কালো টাকা সাদা করেছেন এবং স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি দুর্নীতিবাজ। তার ছেলে কোকোর দুর্নীতি যে ধরা পড়েছে এবং সেই টাকা বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়েছে। তারেক রহমানের দুর্নীতি ধরা পড়েছে সেগুলোর জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চান এবং আজ বিশ্ব মিডিয়ায় যে অবৈধ অর্থ সম্পদের খবর এসেছে সেটি যে সত্য নয়, সেটি প্রমাণ করায় দায়িত্ব হচ্ছে আপনাদের । আমরা তথ্য প্রমাণ নিয়েই বলছি। এগুলো সময় মতো বেরিয়ে আসবে। যেভাবে কোকো এবং তারেকের দুর্নীতির খবর বাংলাদেশের মানুষ জেনেছে। বেগম জিয়ার দুর্নীতির খবরও বাংলাদেশের মানুষ স্ববিস্তারে ভবিষ্যতে জানতে পারবে।
সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মানবাধিকারের কথা বলেন। যারা জীবন্ত মানুষের গায়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যারা দিনের পর দিন অবরোধের নামে বাংলাদেশের মানুষকে অবরুদ্ধ করে রাখে, যারা ঘুমন্ত মানুষের ওপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে হত্যা করে, যারা বাস-ট্রাক ড্রাইভারদের ওপর বোমা নিক্ষেপ করে, যারা সিএনজি অটোরিকশা চালকদের সিএনজি থেকে নামিয়ে গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তাদের মুখে মানবাধিকার মানায় না। বিএনপি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করেছেন। আর এটি শুরু করেছেন তাদের নেতা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের পথ রুদ্ধ করে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এম এ খালেকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব নুরুল ইসলাম, উপদেষ্টা বিশিষ্ট বিজ্ঞানি ড. আব্দুল খালেক, কামরুল ইসলাম বিটু, হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন টয়েল, অরুন সরকার রানা প্রমুখ।
ইত্তেফাক/কেকে