হাইকোর্টে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন

‌‌'সংস্কারের অভাবে খাসপুকুর অবৈধ দখলদারদের কবলে'

দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না করায় সরকারি খাসপুকুর অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে যাচ্ছে। এসব পুকুরে মাছ কিংবা জলজ প্রাণী বসবাসের অনুপযুক্ত হওয়ায় ইজারা প্রদান করাও যাচ্ছে না বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন। ওই প্রতিবেদনে বেদখল হওয়া সরকারি খাসপুকুর বা জলাশয়ের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্ধের ভূমি মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা যেতে পারে বলেও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। 
 
বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে রবিবার এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে আগামী ২৫ জানুয়ারি শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।
 
গাজীপুর জেলা প্রশাসকের দাখিলকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলায় মোট খাসপুকুরের সংখ্যা ৮৪৭টি। এর মধ্যে ইজারাযোগ্য খাসপুকুর ৫২১টি। তিন বছর মেয়াদে ১৯৫টি খাসপুকুর ইজারা প্রদান করা হয়েছে। ইজারা বহির্ভূত জলমহালের সংখ্যা ৩২৬টি। ইজারা বহির্ভূত খাসপুকুরের মধ্যে ৩৩টি খাসপুকুর নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। ইতমধ্যে যেসকল খাসপুকুর অবৈধভাবে ভরাট করে দখল করা হয়েছে বা দখলের পায়তারা চলছে সেগুলোর বিষয়ে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। নির্দেশনার মধ্যে ক্ষতিপূরণ আদায়সহ অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের কথা বলেছে জেলা প্রশাসন। প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বস্ব অধিক্ষেত্রের আওতাভুক্ত খাসপুকুর বা জলাধার সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এডিপির আওতায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা যেতে পারে।
 
“সরকারি পুকুর ভরাট করে দখলের হিড়িক” শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গাজীপুর জেলায় বেদখল হওয়া সব খাস জলাশয় পুনরুদ্ধার করতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। একইসঙ্গে খাস পুকুর ও জলাশয়ের তালিকা করে বেদখল জলাশয়গুলো উদ্ধারে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়। 
 
ইত্তেফাক/এমআই