অগ্রহায়ণ মাসের বৃষ্টি ফসলের জন্য ভালো হয়নি। বিপাকে পড়েছেন আলু চাষিরা। সদ্য বোনা সরিষা, ভুট্টা, গম, রসুন ও পিঁয়াজের ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে মাঠ পর্যায় থেকে। কোথাও কোথাও ধান খেতে পানি জমার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় কনকনে ঠান্ডায় সবার কাহিল থাকার কথা। দু’-একটি শৈত্যপ্রবাহও বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এবার উত্তর থেকে আসা শীতের সেই ঠান্ডা বাতাস ঠেকিয়ে দিয়েছে সাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ। নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর থেকে আসছে জলীয়বাষ্প বোঝাই বাতাস। সারা দেশে কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়ার এই বিরূপ আচরণের প্রভাব পড়ছে কৃষির ওপর।
আমাদের কচুয়া (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, টানা তিন দিনের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে কচুয়ায় আলু চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর কচুয়ায় ৩ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর বীজ বোনা হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির পানি জমে আলুর বীজ ও প্রয়োগকৃত সার সবই নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া ধনিয়া, মুলা, লাল শাক, মরিচ, লাউ, কুমড়া ইত্যাদি শাকসবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে এলাকার আলু চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে জমিতে আলু বোনার কাজ শেষ করেছেন, কেউবা জমি তৈরির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এ সময় বৃষ্টিতে বোনা আলু বীজ পচে যেতে পারে বলে কৃষকের আশঙ্কা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান জানান, এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। যে সমস্ত কৃষকের আলুর গাছ গজিয়েছে তাদের তেমন কোনো ক্ষতি না হলেও যারা সদ্য আলুর বীজ বুনেছেন তাদের সামান্য কিছু ক্ষতি হতে পারে। তবে চেষ্টা করতে হবে বিকল্প পদ্ধতিতে কোনোভাবে পানি বের করে দেওয়ায়। ২/১ দিনের বেশি সময় জমিতে পানি আটকা থাকলে তা আলুর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, তাড়াশে গত দুদিন ধরে অবিরাম বৃষ্টিতে সদ্য বোনা সরিষা, ভুট্টা, গম, রসুন ও পিঁয়াজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমিতে জমে সকল প্রকার বীজ ও চারা নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে আবার ওই সকল ফসল বুনতে হবে।
বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা জানান, বেতাগীতে আমন ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জানা গেছে, আমন কেটে নেওয়ার আগ মুহূর্তে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের মাঝে শুরু হয়েছে হাহাকার। গত শুক্রবার থেকে গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত থেমে থেমে মাঝারি বর্ষণে মাঠে পানি জমে গেছে। এতে পাকা ফসল মাঠেই নষ্ট হচ্ছে।
ইত্তেফাক/নূহু