ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, সমাজে বৈষম্য রয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন তারা এই বৈষম্যের জন্য প্রাণ দেননি। দেশে অনেক উন্নয়ন হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। কিন্তু সম্পদের সুষম বণ্টন হচ্ছে না। মত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা-নিষেধ আরোপ করা হয়। ক্ষমতাসীন দল বাধা দেয়। যারা দারিদ্র্যের মাঝে বাস করে তাদের মানবাধিকার পাওয়া খুব কঠিন হয়ে যায়। বিদেশে যাওয়ার সময় এয়ারপোর্টে গিয়ে অনেকে জানতে পারেন তার বিদেশে যাওয়ায় বিধি-নিষেধ রয়েছে। এটা মানবাধিকার লংঘন।
তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের জন্য অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি। এখন দেশের শত্রুর বিরুদ্ধে জয়ী হতে হবে। তাকিয়ে রয়েছি দেশের সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে।
গতকাল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে ‘মানবাধিকার দিবস থেকে বিজয় দিবস’ শীর্ষক বিজয় উত্সবের উদ্বোধনী দিনে মানবাধিকার বিষয়ক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সপ্তাহব্যপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়। এবারই প্রথম আগারগাঁওয়ে নিজস্ব জায়গায় হচ্ছে উত্সব। আর সেজন্যই উত্সবকে কেন্দ্র করে বেশ সাজসাজ রব পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে।
সপ্তাহব্যাপী বিজয় উত্সব চলবে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। উত্সবে প্রতিদিন সকালে শিশু-কিশোরদের আনন্দানুষ্ঠানসহ বিকাল তিনটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত জাদুঘরের চারটি মঞ্চে অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।
বিকালে উদ্বোধনী পর্বে স্পন্দনের শিল্পীদের নৃত্যের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। উন্মুক্ত মঞ্চে সুবচন নাট্য সংসদ মঞ্চস্থ করে পথনাটক ‘বোধদয়’। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে ইস্পাহানী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সন্ধ্যায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন মিতা হক, আবৃত্তি পরিবেশন করে ‘ঢাকা স্বরকল্পন’, দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে ‘সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী’। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে ব্রাইট স্কুল এন্ড কলেজ ও ক্যালিক্স প্রি-ক্যাডেট স্কুল। সন্ধ্যা ৭টায় ভাস্কর্য অঙ্গনে বাউল গান পরিবেশন করে কুষ্টিয়ার আরশিনগর বাউল সংঘ।
আজ সোমবার উত্সবের দ্বিতীয় দিন বিকাল তিনটায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্মুক্ত মঞ্চে পথনাটক ‘বুদ্ধি’ পরিবেশন করবে নাট্যযোদ্ধা ও পথনাটক ‘গর্ত’ পরিবেশন করবে প্রাচ্যনাট। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে ঢাকা মহিলা কলেজ, হযরত শাহ আলী মহিলা কলেজ ও শেরেবাংলা নগর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ। বিকাল পাঁচটায় সবুজ চত্বরে সারিগান পরিবেশন করবে কিশোরগঞ্জ গণসাংস্কৃতিক সংস্থা (কিশোরগঞ্জ)। সন্ধ্যা ৭টায় ভাস্কর্য অঙ্গনে সঙযাত্রা পরিবেশন করবে মহাদেব সঙযাত্রা দল (টাঙ্গাইল)।
বাংলা একাডেমিতে রোকেয়া দিবসের আলোচনা
রোকেয়া দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজিত একক বক্তৃতায় অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমিন বলেছেন, ‘রোকেয়া তার ঐতিহাসিক বস্তুবাদী এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক নারী-ভাবনায় ইতিহাসে উপেক্ষিতা নারীকে নতুন মর্যাদা দান করেছেন। নারীর বিকাশের পথে মানসিক অধস্তনতাকে তিনি অন্যতম প্রতিবন্ধক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।’
গতকাল রবিবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে রোকেয়া দিবস ২০১৭ উদ্যাপন উপলক্ষে তিনি ‘জ্ঞানতত্ত্ব ও নারীমুক্তি : আমাদের পথিকৃত্ (ঊনিশ ও বিশ শতক)’ শীর্ষক একক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক পারভীন হাসানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নূরজাহান বোস, মালেকা বেগম, লিলি হক প্রমুখ।
পারভীন হাসান বলেন, রোকেয়া তার ব্যক্তি ও সাহিত্যজীবনে ছিলেন চিন্তাশীল এবং বাস্তবানুগ। তাই রক্ষণশীল সমাজের ভেতর অবস্থান করেও সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ সাপেক্ষে নারীদের সামনে তাদের অবনত অবস্থা তুলে ধরেছেন।
শামসুজ্জামান খান বলেন, রোকেয়া নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আমাদের সবাইকে দিয়ে গেছেন সম্মুখযাত্রার দিশা। রংপুরের প্রত্যন্ত পায়রাবন্দের রোকেয়া নারীমুক্তির যে আলোর শিখা জ্বেলে দিয়ে গেছেন তা আজও আমাদের সার্বিক মুক্তির পথে অনিঃশেষ প্রেরণা দিয়ে চলেছে।
ইত্তেফাক/নূহু