দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়েনি, বেড়েছে দুর্নীতি: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে সরকারের লোকজন পকেট ভারি করেছে। দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়েনি। বেড়েছে দুর্নীতি। বিদ্যুৎ নিয়ে সরকার মিথ্যাচার করছে। আওয়ামী লীগ ২০০১ সালে রেখে গিয়েছিল ১৮০০ মেগওয়াট বিদ্যুৎ, বিএনপির ৫ বছরে সেটা ৩২০০ মেগওয়াটে উন্নীত করা হয়। আমি সরকারের উদ্দেশে বলতে চাই এত বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেন সে বিদ্যুৎ গেল কোথাও। এ শীতের দিনেও শহরে দিনে তিন চার বার লোডশেডিং হয়। গ্রামেতো বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মাঝে আসে। মফস্বল শহর এবং গ্রাম অন্ধকারে নিমজ্জিত। কুইক রেন্টালের নামে যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা হয় এটা সে কাজির গরুর মতো কেতাবে আছে গোয়ালে নেই। মূলত বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়েনি। অথচ প্রধানমন্ত্রী বললেন,বিএনপি ১৬শ’ আওয়ামী লীগ দিয়েছে ১৬ হাজার মেগওয়াট বিদ্যুৎ। দেশবাসী এই মিথ্যাচার সম্পর্কে ওয়াকেফহাল।
 
সোমবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবে রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন ও সাবেক সাংসদ আবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
 
রিজভী বলেন, বিগত নয় বছরে রাজকোষসহ সরকারি ব্যাংক লুট হয়েছে, শেয়ারবাজার, বীমা ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো ক্ষমতাসীনরা লুটে নেওয়ায় অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। লুটের কারণে আজকেও একটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন দেখতে পেলাম। সড়ক মহাসড়কের বেহাল বেহাল দশায় মানুষকে প্রতিদিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হচ্ছে। উন্নয়নের নামে দেশে যে হরিলুট চলছে তা মানুষ হিসেব রাখছে। নিজেদের কলঙ্ক তিলক ঢাকতে তারা জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অলীক কাব্য কথা রচনা করেন। হাজার মিথ্যা দিয়ে নিজেদের সত্য অপকর্ম ঢাকতে পারবেন না। রাষ্ট্রশক্তিকে নিজেদের সুবিধামত ব্যবহার করে সেটি প্রয়োগ করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইসচেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। যা পরিকল্পিত ও নীলনকশারই অংশ। মিথ্যা অপপ্রচারের গোলকধাঁধা সৃষ্টি করে মানুষকে বোকা বানানো যাবে না।
 
ইত্তেফাক/এমআই