নওগাঁর বদলগাছীতে কোরবান আলী নামে এক যুবক চাকরি দেয়ার নামে টাকা নিয়ে আত্মগোপন করে। পরে ওই যুবককে ভুক্তভোগীরা আটক করে থানায় সোপর্দ করে। ওই যুবকের নাম কোরবান আলী। তিনি রাজশাহী জেলার বাগামারা উপজেলার পানিয়া গ্রামের এমরান আলীর ছেলে।
ঘটনায় মঙ্গলবার ভুক্তভোগী নাটোর জেলার সিংড়া থানার ঝিনা গ্রামের ফজলুর রহমানে ছেলে আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে কোরবান আলীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে বদলগাছী থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর পুলিশ ওই যুবককে নওগাঁ জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সাত মাস আগে জেলার বদলগাছী উপজেলার ভাণ্ডারপুর বাজারের পাশে আল-আমিনের বাড়ি ভাড়া নিয়ে 'গ্রীণ ওয়ার্ল্ড লিমিটেড' নামক একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন কোরবান আলী। তিনি নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পরিচয় দিতেন। সেখানে ইলেকট্রনিক ও কনজুমার পণ্য বাজারজাত করতে তার প্রতিষ্ঠানে চাকুরি দেয়ার নাম করে টাকা জামানত নেয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠান প্রসারের জন্য বিভিন্ন জেলায় মোটা অংকের টাকা জামানত নিয়ে ডিলার নিয়োগ শুরু করেন। চাকরি দেয়ার নাম করে ২০ হাজার টাকা থেকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানত নেয়। এভাবে প্রায় ৫০ জন লোকের কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। অফিসে লোকবল নিয়োগ দেয়ার পর থেকে কর্মচারীরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিয়মিত আসা যাওয়া করত। কিন্তু গত ছয় মাস কোন কর্মচারীর কোন বেতন ভাতাদি পরিশোধ করা হয়নি। কর্মচারীরা বারবার তাগাদা দিলেও আজকাল দিবো বলে কালক্ষেপণ করে। সর্বশেষ গত ৫ ডিসেম্বর আবারও বেতনের জন্য তাগাদা দেয় কর্মচারীরা।
এসময় প্রতারক কোরবান আলী নতুন একটি কোম্পানি আসলে আগামী বছর থেকে বেতন দেয়া হবে বলে ভাণ্ডারপুর বাজারের প্রধান কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে অফিসে না এসে তিনি আত্মগোপন করেন। সোমবার (১১ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার খলশি বাজারে কোরবান আলীকে দেখে ভুক্তভোগীরা ধরে থানায় নিয়ে যায়। এ বিষয়টি মামলার বাদী জানতে পেরে নাটোর থেকে ছুটে আসেন।
উপজেলার উত্তর পারিচা গ্রামের মোস্তাকিম বলেন, নৈশ প্রহরী পদে ৬ হাজার টাকা বেতনে চাকুরি দেয়ার নাম করে গত ৬ মাস আগে ২০ হাজার টাকা জামানত দিয়েছি। কিন্তু এ পর্যন্ত কোন বেতন পায়নি। গত কয়েক দিন তাকে আর অফিসে পাওয়া যাচ্ছে না।
নওগাঁর বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। আসামীকে নওগাঁ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বাকীদেরও আটকের চেষ্টা চলছে। এছাড়া অফিসে থাকা মালামালগুলো জব্দ করা হবে।
ইত্তেফাক/জামান