গেইলের ক্যাচ মিসের অনুশোচনায় পুড়ছেন সাকিব

বিপিএলের ফাইনালে ৬৯ বলে ১৪৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে রংপুর রাইডার্সকে জয়ের ভিত গড়ে দেন। অথচ এই গেইলই কিনা আউট হতে পারতেন মাত্র ২২ রানে। রংপুর ইনিংসের সেটি ষষ্ঠ ওভার। মোসাদ্দেক হোসেনের বলে কাভারে ক্যাচ দিয়েছিলেন গেইল। একটু নিচু হলেও ক্যাচটি ছিল সহজ। কিন্তু ফেলে দেন সাকিব।
 
জীবন পাওয়ার পর আর কোনো সুযোগই দেননি গেইল। দানবীয় ব্যাটিং করে একাই ম্যাচকে নিয়ে গেছেন ঢাকার আয়ত্বের বাইরে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার অধিনায়ক সাকিবের কাছে তাই প্রশ্ন ছিল ঢাকার ভুল ছিল কোনটি? জবাবটাও খুব সহজভাবেই দিলেন, ‘আমার ক্যাচ মিস।’ পরে ঢাকার পুরো দল মিলে গেইলের একার চেয়ে মাত্র ৩ রান বেশি করে। 
 
গেইল যখন বিধ্বংসী হয়ে ওঠলেন তখন নিজেদের বোলিংটাও যথাযথ ছিল না বলে মনে করেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘আমরা বোলিংটা ওভাবে ভালো করতে পারি নাই। গেইলের ক্ষেত্রে মনে হয় আমরা ভালো জায়গায় যথেষ্ট বল করতে পারি নাই। হয়তো বা আরও এক-দুইটা সুযোগ পেলে কিছু করতে পারতাম। কিন্ত সুযোগটা আর আসে নাই।’
 
প্রথম ২ ওভারে সাকিব মা্ত্র ৭ রান দিয়েছিলেন। পরে গেইলের সামনে বল নিয়ে আক্রমণে যাওয়ার সাহস করেননি সাকিবও। তারও ব্যাখ্যা আসল ঢাকার অধিনায়কের কাছ থেকে। বলেন, ‘গেইল আউট হলে অবশ্যই বল করতে পারতাম। গেইল যতক্ষণ ছিল ওই সময় আমার বল করা কঠিন। যেহেতু বাঁহাতি স্পিনার আমি, ওর অন্য খুব সহজ। সেজন্য শেষ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে, যেটা আমার করতেই হতো।’
 
টস জিতে ঢাকার ফিল্ডিং নেয়ার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতাও ব্যাখ্যা করলেন সাকিব। বলেন, `শিশির একটা কারণ ছিল। আর ওই সময়ে ক্যাচ ধরতে পারলে ওদের রান ১৪০-১৩০ বেশি হতো না। কারণ উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য অতটা সহজ ছিল না। যেহেতু আমরা অনেক ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলেছি, আর ওদের বোলিংকে খুব ভালো মনে করিনি, আমাদের বিশ্বাস ছিল ১৫০-১৬০ পর্যন্ত রান আমরা তাড়া করতে পারব।’
 
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সোমবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বাদ পড়ার দিনে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও জনসন চালর্সের ১৫১ রানের জুটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মঙ্গলবার গেইলের দিনেও সহযোগী ছিলেন ম্যাককালাম। দুজন করলেন ২০১ রানের জুটি। আর গেইল অপরাজিত ছিলেন ১৪৬ রানে। ফাইনালে হারের পর ঢাকার অধিনায়ক সাকিব বললেন- ‘যে দিন গেইল ও ম্যাককালামের, সেই দিন কিছুই করার থাকে না প্রতিপক্ষ দলের।’
 
ইত্তেফাক/কেআই