রংপুরের পীরগাছা উপজেলা শিক্ষা অফিসে চলছে স্টেশনারি ব্যবসা। শিক্ষা উপকরণসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী চড়া দামে বিক্রি করা হয়ে থাকে এ অফিসে। স্টেশনারি ব্যবসা সরাসরি তদারকি করেন দুই সহকারী শিক্ষা অফিসারসহ উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিজেই। আর এসব শিক্ষা উপকরণ ও সামগ্রীর ক্রেতা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ।
জানা গেছে, উপজেলা শিক্ষা অফিসার রফিক-উজ-জামান ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত হোসেন এবং ইয়াকুবুল আজাদ যোগদানের পর থেকে স্টেশনারির ব্যবসা শুরু করেন। উপজেলার ১৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের জিম্মি করে চলছে এ ব্যবসা। চলতি বার্ষিক পরীক্ষার খাতা নিয়ম অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের তৈরী করে পরীক্ষা নেয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে নিম্নমানের কাগজ দিয়ে তৈরী করা খাতায় হচ্ছে বার্ষিক পরীক্ষা। বিদ্যালয়গুলোতে নিম্নমানের খাতা সরবরাহ করে বাজার মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্য নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাই প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ শিক্ষার্থীদের নিকট পরীক্ষার ফি বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায় করা অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন উপজেলা শিক্ষা অফিস। এছাড়াও ওই শিক্ষা অফিস থেকে বাধ্যতামূলক ডায়রি, শিক্ষক হাজিরা খাতা, গতিবিধি রেজিস্টার, শিক্ষা উপকরণ, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা উপকরণ, বাত্সরিক পরীক্ষার জন্য ব্যানার ও মেধা পুরস্কারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদি উচ্চ মূল্যে বিক্রয় করার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার রফিক-উজ-জামান শিক্ষা উপকরণসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, চড়া দামে নয়, বাজার মূল্যেই প্রধান শিক্ষকদের নিকট বিক্রি করা হচ্ছে।
রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম জানান, এ ধরনের স্টেশনারি বিতরণ করার কোনো নিয়ম নেই। যদি এমনটা হয়ে থাকে সেটা অন্যায়।
ইত্তেফাক/এএম।