স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় প্রাণ গেল স্ত্রীর

 
গুরুদাসপুর উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। পরকীয়ার জের ধরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। বুধবার বিকাল চারটার দিকে ঘটনাটি ঘটে। রাত আটটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
 
রাতেই লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত স্বামী নুর ইসলাম।
 
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭ বছর আগে বড়াইগ্রাম উপজেলার তিরোইল গ্রামের দিনমজুর রমজান আলীর মেয়ের সাথে নুর ইসলামের বিয়ে হয়। সে সময় যৌতুক হিসেবে সোনার গহনা ও নগদ ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই শাহিদাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন নুর ইসলাম। এনিয়ে কয়েক দফা সালিস দরবারো হয়েছে। তাদের সংসারে নদী নামের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সে রশিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। 
 
শাহিদার মা শরফুল জান অভিযোগ, ১৫ বছর আগে শ্বশুর বাড়ির টাকায় বিদেশ যায় নুর ইসলাম। সেখানে গিয়ে পরিবারের কোন খোঁজ রাখেনি সে। উপরন্ত নাটোর সদরের বাসিন্দা খালাতো বোনের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে নুর ইসলামের। বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি শাহিদা। একারণে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ড চলছিল। সর্বশেষ মাসখানেক আগে বিদেশ থেকে ফিরে ওই খালাতো বোনের সাথে যোগাযোগ শুরু করে নুর ইসলাম। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় সন্ধ্যায় শাহিদাকে হত্যা করা হয়েছে।
 
নিহত শাহিদার শাশুড়ি দাবি করেন, বুধবার বিকালে তার ছেলের সাথে শাহিদার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শাহিদা ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তাকে খুন করা হয়নি।
 
নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাসখানেক আগে বিদেশ থেকে ফিরেছেন নুর ইসলাম। তার খালাতো বোনের সাথে পরকীয়ার ব্যাপারে তাদের পরিবারে টানাপড়েন চলছিল।
 
গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস বলেন, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরে হত্যার কারণ বোঝা যাবে। তাছাড়া নিহতের স্বামী নুর ইসলাম ঘটনার পর থেকে পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি