কুমিল্লা চিড়িয়াখানার সিংহ ‘যুবরাজ’ আর নেই, ময়নাতদন্তের পর খাঁচার পাশেই শেষ ঠিকানা


কুমিল্লা চিড়িয়াখানার ‘যুবরাজ’ নামে একমাত্র সেই সিংহটি আর নেই। রুগ্ন যুবরাজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কুমিল্লা চিড়িয়াখানার নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রায় দেড় মাস চিকিত্সাধীন থাকার পর অবশেষে ১৮ বছর বয়সে মঙ্গলবার সকালে মারা গেছে। পরে চার সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে সিংহটিকে চিড়িয়াখানার খাঁচার পাশেই গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এর আগে যুবরাজের অসুস্থ হওয়ার খবরে গত ১ নভেম্বর প্রাণী বিশেষজ্ঞ দল এর প্রদর্শন বন্ধ করে দিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় খাবার ও চিকিত্সা প্রদান করে আসছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম থেকে পাঁচ বছর বয়সের সিংহের বাচ্চাটিকে কুমিল্লা চিড়িয়াখানায় প্রদর্শনের জন্য আনা হয়েছিল। সিংহটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘যুবরাজ’। কিন্তু দিনে দিনে বয়স বৃদ্ধির পাশাপাশি রুগ্ন হয়ে পড়ে যুবরাজ। দুর্বল ও রুগ্ন শরীর নিয়ে কোনো মতে দর্শনার্থীদের সামনে দাঁড়াতে পারলেও গত নভেম্বরে যুবরাজ বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে কিছুদিন শুয়ে থেকেই যেন যুবরাজ নামে সিংহটি মৃত্যুর প্রহর গুনছিল। চিকিত্সা দিয়েও যুবরাজকে আর দর্শনার্থীদের জন্য উপযোগী করা সম্ভব হচ্ছিল না। এদিকে যুবরাজের রুগ্ন অবস্থার ছবি ও খবর ইত্তেফাকে প্রকাশিত হওয়ার পর এর চিকিত্সার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। গত ১ নভেম্বর ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল কুমিল্লা চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেন এবং তারা এয়ারগান দিয়ে ইনজেকশন পুশ করে যুবরাজকে চিকিত্সা দেন। কিন্তু একপর্যায়ে রুগ্ন-শীর্ণ কঙ্কালসার যুবরাজের স্থান হয় চিড়িয়াখানার নিবিড় পর্যবেক্ষণ খাঁচায়। যেখানে যুবরাজের বসবাস ছিল সেখানেই পর্দা টানিয়ে দিয়ে চিকিত্সার জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) করা হয়েছিল।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বলেন, যুবরাজ সিংহটি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যের কারণে নানা রোগে ভুগছিল। স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ায় ঠিকমত খেতেও পারছিল না। তাই এর প্রদর্শন বন্ধ রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিত্সা চলছিল। চিকিত্সাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে সিংহটি মারা যায়। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল মান্নান বলেন, সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আরিফ হাসানাতকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের মেডিক্যাল টিম সিংহটির ময়নাতদন্ত করেছে। পরে খাঁচার পাশেই মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু