ইউএনও'র কাছে অভিযোগ করার কারণে অভিযোগকারীর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চরদিয়াশুর গ্রামের অসহায় লালচান হাওলাদারের বসত ঘরে হামলা করেছে প্রতিপক্ষরা। হামলাকারীরা লালচানের স্ত্রী পারভীনকে এবং তার পুত্র সোহাগ হাওলাদারকে (২০) মারধর করে আহত করেছে। লালচাঁনের পরিবারটি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা বিচারের আশায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের দ্বারে ঘুরছেন।
জানা গেছে, ২০০৫ সালে চরদিয়াশুর মৌজায় মাত্র ৭ শতক সরকারী খাস জমির বন্দোবস্ত পেলেও দখল বুঝে পাননি লালচান। উল্টো প্রতিপক্ষের দ্বারা অনেকবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, হচ্ছেন অসহায় লালচান হাওলাদার ও তার পরিবার।
লালচান জানান, বুধবার সকালে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তার (সরকারী বন্দোবস্তো প্রদানকৃত) জমিতে মাটি কাটা শুধু করে প্রতিপক্ষ কালাম প্যাদা ও তার কতিপয় সহযোগী। এ সময় বাধা দিলে কালাম প্যাদার সহযোগী যুবলীগ ক্যাডার আলামিন মৃধা, সোহাগ প্যাদাসহ ৫/৬ জন তাদের ওপর হামলা করে। এ সময় লালচাঁনের স্ত্রী পারভীন বেগমকে (৪০) হামলকারীরা পিটিয়ে আহত করে।
জানা গেছে ওইদিন দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন লালচান। অভিযোগ পেয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নিবাহী অফিসার গৌরনদী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। এ ঘটনা জানতে পেরে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে রাতে লালচানের বসত ঘরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে প্রতিপক্ষরা। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আলামিন মৃধা পুনরায় লালচানের পুত্র সোহাগ (২০) কে মারধর করে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয়।
খবর পেয়ে গৌরনদী থানার এসআই মোশাররফ হোসেন সরে-জমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান। তিনি তাৎক্ষনিক লালচানের জমির সীমানা পিলার পুতে দেন। এরপর প্রতিপক্ষরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয়। বিচার পাওয়ার আশায় রাতে লালচানের পরিবার গৌরনদীর পৌর মেয়র মোঃ হারিসুর রহমানের দ্বারস্থ হন।
অভিযোগে জানা গেছে, একটি ভূমিহীন ও দুঃস্থ পরিবার হিসেবে লালচান হাওলাদার ও তার স্ত্রী পারভীন বেগমের নামে ২০০৫ সালে চরদিয়াশুর মৌজায় তাদের বসত বাড়ী সংলগ্ন এসএ ২২৬ দাগে ৭ শতাংশ সরকারী খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক। বর্তমান হাল জরিপে (বিএস রেকর্ড) লালচান ও তার স্ত্রীর নামে ওই জমি রেকর্ড হয়। কিন্তু সরকারীভাবে ওই জমি বুঝিয়ে না দেয়ার কারণে ওই জমি দখল করে নেয় প্রতিবেশী কালাম প্যাদা। এর পর সে লালচাঁন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাদের হয়রানী করছে।
সম্প্রতি লালচান গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা আক্তারের কাছে জমির দখল পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। এরপর নির্বাহী অফিসার লালচানের জমি মেপে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মিজানুর রহমানকে নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ পেয়ে গত ৫ ডিসেম্বর সার্ভেয়ার ওই জমি মেপে সনাক্ত করেন। কিন্তু জমি নিয়ে মামলা থাকার কারণে লালচানকে জমির দখল বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হন।
লালচাঁন হাওলাদার ও তার স্ত্রী পারভীন জানান, কালাম প্যাদা ও তার সহযোগীরা তার ওপর একাধিকবার হামলা করেছে।
ইত্তেফাক/নূহু