সাতক্ষীরার তালা থানা পুলিশের প্রচেষ্টায় ১৬ দিনের বন্দিদশা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার মুক্তি পেয়েছেন উপজেলার দক্ষিণ নলতা গ্রামের একটি পরিবার। ২৮ নভেম্বর প্রতিবেশী শরীকরা বাড়িটির যাতায়াতের অন্তত: ৮টি জায়গায় কাটা-বেড়া ও ইটের সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে সবগুলো পথ বন্ধ করে দিলে সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ৩ সদস্যের ওই পরিবারটি।
ওই পরিবারের ৮৫ বছরের অসুস্থ বৃদ্ধা রিজিয়া বেগম ও এপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত কলেজ ছাত্র হাবিবুর রহমানের (২২) ওষুধ পর্যন্ত কিনতে বাইরে যেতে পারেনি। বন্ধ হয়ে যায় তার কলেজেও যাওয়া। গত ১৬ দিনে গোসল করেননি তারা। বন্দিদশা থেকে মুক্তির পর তাদের এমন হৃদয়গ্রাহী কথা শুনে রীতিমত হতবাক হয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি এলাকাবাসী।
তালা থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত ২৮ নভেম্বর থেকে তালার দ. নলতার মৃত ডা. রেজোয়ান মোড়লের ছেলে হাবিবুর রহমান মোড়লের পরিবারটিকে পূর্ব শত্রুতার জের হিসেবে অবরুদ্ধ করে রাখে তারই প্রতিবেশী মৃত আকিম উদ্দিন মোড়লের ছেলে সামাদ মোড়ল ও আমজেদ মোড়লের ছেলে পশু চিকিৎসক রহমান গং। প্রায় ২/৩ দিনের জোর প্রচেষ্টায় তারা সম্মিলিতভাবে হাবিবুরদের বাড়ির চারিপাশে অন্তত: ৮ জায়গায় কাটা, বেড়া ও ইটের সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দেয়। এতে তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
বাড়ির বাইরে থেকে বেঁচে থাকার আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী প্রশাসনসহ সাংবাদিকদের জানালে বৃহস্পতিবার সকালে তালা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই নাজমুল, এসআই কামাল হোসেন ও এএসআই মাহফুজুর রহমানসহ সঙ্গীয় ফোর্স, স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘেরা-বেড়াগুলি অপসারণ করেন। এসময় দীর্ঘ ১৬ দিনের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বেরিয়ে বাইরে এসে হাউ-মাউ করে কেঁদে ফেলেন। তাৎক্ষণিক সেখানকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে তাদের হৃদয় বিদারক আহাজারিতে। এদিকে একটি অসহায় পরিবারের ১৬ দিনের বন্দিদশা থেকে মুক্তির ঘটনায় থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সাথে সাথে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনাগত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায়।
ইত্তেফাক/জামান