পিলখানা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৬ আসামির খালাসের হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে সরকার। রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পেলেই এ আপিল দায়ের করা হবে। ইতমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আপিল দায়েরের জন্য অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড নিয়োগ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল ইত্তেফাককে বলেন, মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত যেসব আসামি হাইকোর্টের রায়ে বেকসুর খালাস পেয়েছেন তাদের দণ্ড বহাল চেয়ে আপিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন দাখিল করেছি। রায়ের অনুলিপি পেলেই যথাসময়ে আপিল দাখিল করা হবে।
গত ২৬ নভেম্বর বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ পিলখানা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে নিম্ন আদালতের দেয়া ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ বিডিআর জওয়ানের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। আর ১৩জনের মধ্যে আটজনের মৃত্যুদণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন ও চারজনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রেখে আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ খালাস দেওয়া হয় ১২ জনকে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, অপরাধের ইতিহাসে পিলখানা হত্যাকাণ্ড এক নজিরবিহীন ঘটনা। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ বেসামরিক নাগরিককে বিডিআর বিদ্রোহীরা নৃশংসভাবে হত্যা করে যে জঘন্য অপরাধ করেছে তা খুবই মর্মান্তিক, বিভীষিকাময়, নারকীয় ও ভয়ঙ্কর। এই অপরাধ সভ্য সমাজের মানুষের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের (জওয়ানদের) অপরাধ বর্বরতা ও সভ্যতার সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় এ বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে।
ইত্তেফাক/এমআই