জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষের ঢল নামবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ

 
জাতি এবার ৪৬তম বিজয় উৎসব পালন করতে যাচ্ছে। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, সমগ্র জাতির একতা এবং দীর্ঘ ৯মাস মরণ-পণ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল চুড়ান্ত বিজয়। মুক্তিযুদ্ধে যে ৩০ লাখ স্বাধীনতাকামী বাঙালি তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন সেই সকল শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে ঢাকা মহানগরী থেকে ৩৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাভারের নবীনগরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ১০৮ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এই স্মৃতিসৌধ আপামর জনসাধারণের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের স্মরণে নিবেদিত এবং শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ জাতির শ্রদ্ধার্ঘের উজ্জ্বল নিদর্শন স্বরূপ। তাই ৪৬তম বিজয় উৎসবের শুরুতে শনিবার শীতের সকালে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ফুলের অর্ঘ নিয়ে স্মৃতিসৌধ বেদিতে আসবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যগণ, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, সাত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যগণ, মুক্তিযোদ্ধা, কুটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতা, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষক-শ্রমিক, সামাজিক সংগঠন, এনজিও কর্মী, ব্যবসায়ী, হকার, টোকাই, বিভিন্ন সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ। স্মৃতিসৌধের বেদি ভরে উঠবে রং-বেরংয়ের ফুলে ফুলে। মুক্তিযুদ্ধে জানা-অজানা ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে লাখো মানুষের সশ্রদ্ধ পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। 
 
সাভার জোনের গণপূর্ত বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী জানান, ৪৬তম বিজয় উৎসব পালন উপলক্ষে গণপূর্ত মন্ত্রাণালয়ের অধীনে থাকা জাতীয় স্মৃতিসৌধ চত্বরটি নানা সাজে সাজানো হয়েছে। ইতিমধ্যে পুরো স্মৃতিসৌধের পাকা অংশে ধোয়া-মোছার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য প্রতিটি ইট ঘষে-মেজে ব্যবহার করা হয়েছে খয়েরি ও সাদা রং। আর আলোকসোজ্জা করা হয়েছে সৌধ চত্বর এলাকায়। স্মৃতিসৌধের আশ-পাশের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে গোটা এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।
 
সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোরশেদ আলম বলেন, নির্বিঘ্নে দিবসটি পালন করার জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবস্থা। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত কয়েকদিন ধরে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে মোতায়ন করা হয়েছে কয়েকশ’ সামরিক ও বেসামরিক নিরাপত্তাকর্মী। গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা স্মৃতিসৌধ কর্ডন করে আশেপাশের এলাকায় করছে কড়া নজরদারি। ইতিমধ্যে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে সুইপিং করা হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে লাখো মানুষের আগমনে যেন কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখছে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাকর্মীরা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাভার-আশুলিয়া-ধামরাইসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার জন্য আনা হচ্ছে। প্রধান ফটক ও আশেপাশের এলাকা গুলোতে পালাক্রমে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ সদস্য। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। 
সেনাবাহিনী, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয় এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধতন কর্মকর্তারা স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন দিক নিদের্শনা দিয়েছেন সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি